প্রাণীদের সাড়া প্রদান ও ভৌত সমন্বয়- স্নায়ুতন্ত্র: WBBSE Class 10 Life Science
September 14, 2026
0 Views
0 Likes
0 Comments
দশম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায়: প্রাণীদের সাড়া প্রদান ও ভৌত সমন্বয়- স্নায়ুতন্ত্র (Response and Physical Coordination in Animals — Nervous System) - সম্পূর্ণ পাঠ্যবই ভিত্তিক মাস্টার সাজেশন ও বিশদ প্রশ্নোত্তর গাইড। বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত (VSAQ — শূন্যস্থান পূরণ, সত্য-মিথ্যা, সম্পর্কযুক্ত শব্দ, বিসদৃশ শব্দ, ৩টি ১টির অন্তর্গত, স্তম্ভ মেলানো), সংক্ষিপ্ত (SAQ মান ২) ও দীর্ঘ (LAQ মান ৫) সহ সম্পূর্ণ প্যাকেজ।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায়ের অন্যতম প্রধান একক হলো "1.D প্রাণীদের সাড়া প্রদান ও ভৌত সমন্বয়- স্নায়ুতন্ত্র" (Response and Physical Coordination in Animals — Nervous System)। পরিবর্তনশীল পরিবেশে প্রাণীর বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত হলো পরিবেশ থেকে নানা সংবেদন বা উদ্দীপনা গ্রহণ করা এবং দ্রুত স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
পাঠ্যবইয়ের ২০ থেকে ৩১ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে স্নায়ুকোশ বা নিউরোন, নিউরোগ্লিয়া, সাইন্যাপ্স, স্নায়ুর প্রকারভেদ, ১২ জোড়া করোটি ও ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু, মানব মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড, মেনিনজেস ও CSF, প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত চাপ, বিজ্ঞানী প্যাভলভের পরীক্ষা, মানুষের চোখ, দৃষ্টির প্রকারভেদ, উপযোজন এবং মায়োপিয়া, হাইপারমেট্রোপিয়া, প্রেসবায়োপিয়া ও ছানি পড়ার মতো দৃষ্টিজনিত ত্রুটির পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা নিচে সজ্জিত করা হলো।
চিত্র ১.১ : একটি আদর্শ নিউরোনের চিহ্নিত চিত্র (কোশদেহ, ডেনড্রন, অ্যাক্সন, মায়েলিন সিদ্, র্যানভিয়ারের পর্ব ও প্রান্তবুরুশ)
হরমোন (রাসায়নিক সমন্বয়ক) ও স্নায়ুতন্ত্র (ভৌত সমন্বয়ক)-এর তুলনামূলক ছক:
তুলনার বিষয়
হরমোন (রাসায়নিক সমন্বয়)
স্নায়ুতন্ত্র (ভৌত সমন্বয়)
১. জীবদেহে ভূমিকা
জীবদেহে রাসায়নিক বার্তাবহ বা রাসায়নিক সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে।
প্রাণীদেহে উদ্দীপনা পরিবহণ করে ভৌত সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে।
২. কাজের গতি ও প্রভাব
ক্রিয়ার গতি অতি মন্থর, কিন্তু এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী।
ক্রিয়ার গতি অত্যন্ত দ্রুত ও ক্ষিপ্র, কিন্তু এর প্রভাব তাৎক্ষণিক ও ক্ষণস্থায়ী।
৩. ক্রিয়ার পর পরিণতি
হরমোন কাজ শেষ হওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বা রূপান্তরিত হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়।
উদ্দীপনা পরিবহণের পর স্নায়ুতন্ত্রের কোনো স্থায়ী গঠনগত বা গুণগত পরিবর্তন হয় না।
৪. ক্রিয়াস্থল
হরমোন সাধারণত উৎপত্তিস্থল থেকে রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দূরবর্তী লক্ষ্য-অঙ্গে ক্রিয়া করে।
স্নায়ুতন্ত্রের নিজস্ব জালক ও নিউরোনের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্য কোশে সংকেত পৌঁছে দেয়।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ)
MCQমান ১
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১–50)
1স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক কোনটি? V.V.I
(a) নেফ্রন
(b) নিউরোন
(c) নিউরোগ্লিয়া
(d) সাইন্যাপ্স
উত্তর: (b) নিউরোন
2পরিণত মানব স্নায়ুকোশ বিভাজিত হতে পারে না, কারণ এতে সেন্ট্রোজোমটি— V.V.I
(a) অত্যন্ত সক্রিয় থাকে
(b) নিষ্ক্রিয় ও অনুন্নত থাকে
(c) অনুপস্থিত থাকে
(d) বহুবিভাজিত হয়
উত্তর: (b) নিষ্ক্রিয় ও অনুন্নত থাকে (ফলে কোশ $G_0$ দশায় আবদ্ধ থাকে)
3নিউরনের কোশদেহে ও ডেনড্রনে অবস্থিত প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্যকারী রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন নির্মিত দানাকে কী বলে? V.V.I
(a) নিজল দানা (Nissl granules)
(b) জাইমোজেন দানা
(c) পিগমেন্ট দানা
(d) অ্যালবিউমিন দানা
উত্তর: (a) নিজল দানা (Nissl granules)
4নিউরনের যে দীর্ঘ, আজ্ঞাবহ এবং প্রধানত শাখাহীন প্রবর্ধক স্নায়ু উদ্দীপনাকে কোশদেহ থেকে দূরবর্তী স্থানে বহন করে, তাকে বলে—
(a) ডেনড্রন
(b) ডেনড্রাইট
(c) অ্যাক্সন
(d) কোল্যাটেরাল
উত্তর: (c) অ্যাক্সন
5নিউরনের কোশদেহের যে শঙ্কু-আকৃতির অংশ থেকে অ্যাক্সনের উৎপত্তি হয়, তাকে কী বলে?
(a) অ্যাক্সোপ্লাজম
(b) অ্যাক্সোলেমা
(c) অ্যাক্সন হিলক (Axon hillock)
(d) সাইন্যাপটিক নব
উত্তর: (c) অ্যাক্সন হিলক (Axon hillock)
6অ্যাক্সনের মেডুলারি আবরণ বা মায়েলিন সিদ্ স্থানে স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যে পর্ব সৃষ্টি করে, তাকে বলে— V.V.I
(a) অ্যাক্সন হিলক
(b) র্যানভিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier)
(c) প্রান্তবুরুশ
(d) এন্ডোনিউরিয়াম
উত্তর: (b) র্যানভিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier)
7মায়েলিনযুক্ত স্নায়ুতন্তুতে উদ্দীপনা অতি দ্রুত গতিতে পর্ব থেকে পর্বে লাফিয়ে লাফিয়ে পরিবহণের ঘটনাকে বলে— V.V.I
মূল সাধারণ বিষয়টি:চোখের দৃষ্টিজনিত ত্রুটি সম্পর্ক: মায়োপিয়া, হাইপারমেট্রোপিয়া এবং প্রেসবায়োপিয়া হলো চোখের প্রধান প্রতিসরণ ও উপযোজনগত ত্রুটি।
উপবিভাগ ৭: 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো
সেট ১ : স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক সংক্রান্ত স্তম্ভ মেলানো
'ক' স্তম্ভ
'খ' স্তম্ভ
(১) সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয়
(a) সংবেদী উদ্দীপনার প্রধান রিলে স্টেশন
(২) সাইন্যাপ্স
(b) পরিণত স্নায়ুকোশ বিভাজনে অক্ষম
(৩) থ্যালামাস
(c) শারীরবৃত্তীয় একমুখী ভালভ
(৪) লঘুমস্তিষ্ক
(d) হৃদস্পন্দন ও শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র
(৫) মেডালা অবলংগাটা
(e) দেহের পেশিটান ও ভারসাম্য রক্ষা
সঠিক মিল:
(১) → (b) পরিণত স্নায়ুকোশ বিভাজনে অক্ষম
(২) → (c) শারীরবৃত্তীয় একমুখী ভালভ
(৩) → (a) সংবেদী উদ্দীপনার প্রধান রিলে স্টেশন
(৪) → (e) দেহের পেশিটান ও ভারসাম্য রক্ষা
(৫) → (d) হৃদস্পন্দন ও শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র
সেট ২ : চক্ষু ও দৃষ্টির ত্রুটি সংক্রান্ত স্তম্ভ মেলানো
'ক' স্তম্ভ
'খ' স্তম্ভ
(১) আইরিশ ও পিউপিল
(a) উপযুক্ত অবতল লেন্স ব্যবহার
(২) রড কোশ
(b) চোখে আলোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ
(৩) মায়োপিয়া প্রতিকার
(c) বয়স্কদের বাইফোকাল চশমা ব্যবহার
(৪) হাইপারমেট্রোপিয়া প্রতিকার
(d) মৃদু আলোয় দর্শনে সাহায্যকারী রোডোপসিন
(৫) প্রেসবায়োপিয়া
(e) উপযুক্ত উত্তল লেন্স ব্যবহার
সঠিক মিল:
(১) → (b) চোখে আলোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ
(২) → (d) মৃদু আলোয় দর্শনে সাহায্যকারী রোডোপসিন
(৩) → (a) উপযুক্ত অবতল লেন্স ব্যবহার
(৪) → (e) উপযুক্ত উত্তল লেন্স ব্যবহার
(৫) → (c) বয়স্কদের বাইফোকাল চশমা ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (SAQ)
SAQমান ২
সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ উত্তর দাও (১–25)
1স্নায়ুতন্ত্রকে প্রাণীদেহের 'ভৌত সমন্বয়কারী' (Physical Coordinator) বলা হয় কেন? V.V.I
উত্তর: স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে স্নায়ুস্পন্দনের (তড়িৎ-রাসায়নিক তরঙ্গ) মাধ্যমে সরাসরি এবং দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলে। হরমোনের মতো কোনো রক্তের বাহন ছাড়াই স্নায়ুতন্তুগুলি তারের মতো সরাসরি অঙ্গগুলির মধ্যে ভৌত সংযোগ স্থাপন করে কাজের সামঞ্জস্য রক্ষা করে বলে স্নায়ুতন্ত্রকে 'ভৌত সমন্বয়কারী' বলে।
2কাজের গতি ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের দুটি প্রধান বৈসাদৃশ্য লেখো। V.V.I
উত্তর:
বিষয়
হরমোন (রাসায়নিক সমন্বয়)
স্নায়ুতন্ত্র (ভৌত সমন্বয়)
১. কাজের গতি
হরমোনের কার্যপদ্ধতি অতি ধীর বা মন্থর প্রকৃতির।
স্নায়ুতন্ত্রের কাজ অতি দ্রুত ও ক্ষিপ্র গতিতে ঘটে।
২. প্রভাবের স্থায়িত্ব
হরমোনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী।
স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব তাৎক্ষণিক এবং ক্ষণস্থায়ী।
3গ্রাহক (Receptor) ও কারক (Effector) বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।
উত্তর:গ্রাহক (Receptor): পরিবেশ থেকে নির্দিষ্ট উদ্দীপনা গ্রহণকারী অঙ্গ বা কলাকে গ্রাহক বলে। যেমন—চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক। কারক (Effector): কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশে উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনকারী অঙ্গকে কারক বলে। যেমন—দেহের কঙ্কাল পেশি এবং বিভিন্ন ক্ষরণকারী গ্রন্থি (যেমন লালাগ্রন্থি)।
4দৌড়ানোর সময় মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্র কীভাবে সমন্বয় সাধন করে? V.V.I
উত্তর: দৌড়ানোর সময় পেশিতে অতিরিক্ত শক্তি, গ্লুকোজ ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। স্নায়ুতন্ত্র তখন:
১. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস নিয়ন্ত্রণ: মস্তিষ্ক রক্তে অতিরিক্ত $CO_2$ শনাক্ত করে মধ্যচ্ছদা ও ইন্টারকোস্টাল পেশিতে স্নায়ুস্পন্দন পাঠিয়ে শ্বাসগতি ও হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে রক্ত সরবরাহ দ্রুত করে।
২. দেহের ভারসাম্য: লঘুমস্তিষ্ক ও কঙ্কাল পেশি সমন্বিত হয়ে দৌড়ানোর সময় দেহের ভারসাম্য অটুট রাখে।
5ডেনড্রন ও অ্যাক্সনের মধ্যে দুটি গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য নির্দেশ করো। V.V.I
উত্তর:
বিষয়
ডেনড্রন
অ্যাক্সন
১. গঠন ও উপাদান
কোশদেহ থেকে নির্গত ক্ষুদ্র, শাখাপ্রশাখাযুক্ত এবং এতে নিজল দানা উপস্থিত থাকে।
দীর্ঘ, শাখাহীন বা স্বল্প শাখাযুক্ত এবং এতে কোনো নিজল দানা থাকে না।
২. কাজের অভিমুখ
পূর্ববর্তী নিউরোন বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কোশদেহে বহন করে আনে (সংজ্ঞাবহ)।
কোশদেহ থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরোনে বা কারকে বহন করে দূরে নিয়ে যায় (আজ্ঞাবহ)।
6মানবদেহের পরিণত স্নায়ুকোশ কেন বিভাজিত হতে পারে না? এর গুরুত্ব কী? V.V.I
উত্তর: পরিণত স্নায়ুকোশের সেন্ট্রোজোমটি অনুন্নত ও নিষ্ক্রিয় থাকায় বেমতন্তু গঠিত হতে পারে না। ফলে স্নায়ুকোশ কোশচক্রের $G_0$ দশায় চিরতরে আবদ্ধ থাকে এবং বিভাজিত হতে পারে না। তাৎপর্য: স্নায়ুকোশ বিভাজিত না হওয়ার ফলে মানুষের পূর্বার্জিত স্মৃতি, বুদ্ধি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সারাজীবন অপরিবর্তিত ও সংরক্ষিত থাকে।
7মায়েলিন সিদ্ বা মেডুলারি আবরণীর অবস্থান ও দুটি প্রধান কাজ লেখো।
উত্তর:অবস্থান: অ্যাক্সনের অ্যাক্সোলেমার বাইরে এবং নিউরিলেমার ভেতরে অবস্থিত পুরু ফ্যাটি স্তর। প্রধান কাজ:
১. তড়িৎ নিরোধক: অ্যাক্সনকে ইনসুলেটর হিসেবে ঘিরে রেখে পার্শ্ববর্তী স্নায়ুতে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করে।
২. স্যালটেটরি পরিবহণ: র্যানভিয়ারের পর্ব গঠন করে উদ্দীপনাকে লাফিয়ে লাফিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবহণে সাহায্য করে।
8সোয়ান কোশ (Schwann Cell) ও র্যানভিয়ারের পর্বের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: ১. সোয়ান কোশ: প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে অ্যাক্সনকে ঘিরে অবস্থান করে এবং মায়েলিন সিদ্ গঠন ও অ্যাক্সনের পুনরুৎপাদনে সহায়তা করে।
২. র্যানভিয়ারের পর্ব: মেডুলেটেড স্নায়ুতন্তুতে মায়েলিন আবরণীর বিচ্ছিন্ন সংযোগস্থল, যা উদ্দীপনা শোষণে ও স্যালটেটরি দ্রুত পরিবহণে সাহায্য করে।
9নিউরোগ্লিয়া কী? কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এর দুটি প্রধান কাজ লেখো। V.V.I
উত্তর: নিউরোন ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের যে পরিবর্তিত রূপান্তরযুক্ত যোগকলা উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের মোট কোশসমষ্টির প্রায় ৯০% গঠন করে কিন্তু স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণে অক্ষম, তাকে নিউরোগ্লিয়া বলে। কাজ: (১) নিউরোনগুলিকে নির্দিষ্ট স্থানে ধারণ করে রাখা ও পুষ্টি প্রদান করা। (২) ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে মৃত কোশ ও ক্ষতিকর জীবাণু ভক্ষণ করে সুরক্ষা দেওয়া।
10অ্যাস্ট্রোসাইট ও মাইক্রোগ্লিয়ার একটি করে প্রধান কাজ লেখো। V.V.I
উত্তর: ১. অ্যাস্ট্রোসাইট (Astrocyte): রক্তবাহ ও নিউরোনের মাঝে অবস্থান করে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (Blood-Brain Barrier) গঠন করে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশে বাধা দেয়।
২. মাইক্রোগ্লিয়া (Microglia): কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণু ও মৃত স্নায়ুকোশ ধ্বংস করে প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ভূমিকা পালন করে।
11স্নায়ুকোশ, স্নায়ুতন্তু ও স্নায়ুর (Neuron, Nerve Fibre, Nerve) মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো। V.V.I
উত্তর: স্নায়ুতন্ত্রের মূল একক হলো স্নায়ুকোশ বা নিউরোন। নিউরোনের দীর্ঘ প্রবর্ধক বা অ্যাক্সন যখন এন্ডোনিউরিয়াম নামক যোগকলার আবরণে বেষ্টিত হয়, তখন তাকে স্নায়ুতন্তু বলে। একাধিক স্নায়ুতন্তু পেরিনিউরিয়াম দ্বারা আবৃত হয়ে তৈরি করে এক-একটি 'ফ্যাসিকল'। আর অসংখ্য ফ্যাসিকল একত্রিত হয়ে সর্ববহিঃস্থ এপিনিউরিয়াম আবরণে বেষ্টিত হয়ে গঠন করে একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ু বা নার্ভ।
12অন্তর্বাহী (সংজ্ঞাবহ) ও বহির্বাহী (আজ্ঞাবহ) স্নায়ুর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। V.V.I
উত্তর:
বিষয়
অন্তর্বাহী (Afferent) স্নায়ু
বহির্বাহী (Efferent) স্নায়ু
১. কাজের অভিমুখ
গ্রাহক অঙ্গ থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে আনে।
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সাড়ার নির্দেশ কারক অঙ্গে (পেশি/গ্রন্থি) বহন করে নিয়ে যায়।
13নার্ভ গ্যাংলিয়ন বা স্নায়ুগ্রন্থি কাকে বলে? এর দুটি কাজ লেখো।
উত্তর:সংজ্ঞা: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে কয়েকটি নিউরোনের কোশদেহ যোগকলার আবরণী পরিবেষ্টিত হয়ে যে ঈষৎ স্ফীত গ্রন্থিসদৃশ গঠন সৃষ্টি করে, তাকে নার্ভ গ্যাংলিয়ন বা স্নায়ুগ্রন্থি বলে। কাজ: (১) স্নায়ু সৃষ্টি ও স্নায়ুপ্রবাহ পরিচালনায় সাহায্য করা। (২) বিশেষ নিউরোসিক্রেশন ক্ষরণ করা যা নিউরোট্রান্সমিটার সমৃদ্ধ হয়।
14স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপ্স কী? এতে নিউরোট্রান্সমিটারের ভূমিকা লেখো। V.V.I
উত্তর:সংজ্ঞা: দুটি নিউরোনের সংযোগস্থল যেখানে একটির অ্যাক্সন প্রান্ত এবং অপরটির ডেনড্রন মিলিত হয়ে রাসায়নিক মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তোলে, তাকে সাইন্যাপ্স বলে। নিউরোট্রান্সমিটারের ভূমিকা: উদ্দীপনা অ্যাক্সন প্রান্তে পৌঁছালে ভেসিকল থেকে অ্যাসিটাইলকোলিন নির্গত হয়ে ব্যবধান (ক্লেফট) অতিক্রম করে পরবর্তী নিউরোনের রিসেপ্টরে আবদ্ধ হয় এবং নতুন স্নায়ুস্পন্দন সৃষ্টি করে।
15সাইন্যাপ্সকে কেন ‘শারীরবৃত্তীয় ভালভ’ (Physiological Valve) বলা হয়? V.V.I
উত্তর: কারণ সাইন্যাপটিক ভেসিকলগুলি কেবল প্রাক-সন্নিধি স্ফীতিতেই অবস্থান করে এবং পোস্ট-সাইন্যাপটিক পর্দায় নির্দিষ্ট গ্রাহক প্রোটিন থাকে। ফলে স্নায়ু উদ্দীপনা সর্বদা প্রাক-সন্নিধি নিউরোন থেকে পশ্চাৎ-সন্নিধি নিউরোনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়, কখনোই বিপরীত দিকে প্রবাহিত হতে পারে না। তাই সাইন্যাপ্সকে শারীরবৃত্তীয় ভালভ বলে।
16করপাস ক্যালোসাম কী? এর শারীরবৃত্তীয় কাজ লেখো। V.V.I
উত্তর:সংজ্ঞা: গুরুমস্তিষ্কের ডান ও বাম গোলার্ধ দুটিকে অভ্যন্তরীণভাবে যুক্ত করে রাখা সি-আকৃতির পুরু স্নায়ুযোজক পটিকে করপাস ক্যালোসাম (Corpus callosum) বলে। কাজ: এটি গুরুমস্তিষ্কের উভয় গোলার্ধের মধ্যে তথ্য ও স্নায়ুস্পন্দনের দ্রুত আদান-প্রদান ঘটিয়ে দুই দিকের কাজের পূর্ণ সমন্বয় রক্ষা করে।
17থ্যালামাসকে কেন মস্তিষ্কের ‘প্রেরক স্থান’ বা রিলে স্টেশন (Relay Station) বলা হয়? V.V.I
উত্তর: দেহ থেকে আসা ঘ্রাণ অনুভূতি ছাড়া স্পর্শ, চাপ, তাপ, ব্যথা, দর্শন ও শ্রবণ সংক্রান্ত সমস্ত সংজ্ঞাবহ স্নায়ুপ্রবাহ গুরুমস্তিষ্কে যাওয়ার আগে থ্যালামাসে এসে সমবেত ও পরিশোধিত হয়। থ্যালামাস এদের শনাক্ত করে গুরুমস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কর্টেক্স অঞ্চলে প্রেরণ করে বলে একে 'প্রধান রিলে স্টেশন' বা সিংহদ্বার বলে।
18হাইপোথ্যালামাসকে কেন ‘দেহের থার্মোস্ট্যাট’ বা তাপনিয়ামক কেন্দ্র বলা হয়? V.V.I
উত্তর: হাইপোথ্যালামাসে দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক স্নায়ুকেন্দ্র থাকে। দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ($98.4^circ ext{F}$) অপেক্ষা বাড়লে ঘাম নিঃসরণ ও রক্তবাহ প্রসারণের মাধ্যমে তাপ ত্যাগ করায় এবং শীতকালে কাঁপুনি ঘটিয়ে তাপ উৎপাদন বাড়িয়ে দেহের তাপমাত্রা স্থির রাখে বলে একে থার্মোস্ট্যাট বলে।
19গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের একটি করে প্রধান শারীরবৃত্তীয় কাজ লেখো। V.V.I
উত্তর: ১. গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম): মানুষের চিন্তা, বুদ্ধি, যুক্তি, স্মৃতিশক্তি এবং সমস্ত মানসিক ও স্বেচ্ছাধীন অঙ্গসঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।
২. লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম): হাঁটাচলা, দৌড়ানো প্রভৃতির সময় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং কঙ্কাল পেশির সঠিক টান বা অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখে।
20সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডালা অবলংগাটার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কাজ লেখো। V.V.I
উত্তর: ১. হৃদক্রিয়া ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: এতে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রক এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ভ্যাসোমোটর কেন্দ্র থাকে।
২. প্রতিরক্ষামূলক প্রতিবর্ত: হাঁচি, কাশি, বমন এবং খাদ্য গলাধঃকরণের মতো জীবনরক্ষাকারী স্বয়ংক্রিয় প্রতিবর্ত ক্রিয়াগুলি পরিচালনা করে।
21মেনিনজেস ও CSF এর অবস্থান ও একটি করে প্রধান কাজ লেখো। V.V.I
উত্তর:মেনিনজেস: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরে অবস্থিত ত্রিস্তরীয় পর্দা। কাজ: করোটি ও মেরুদণ্ডের হাড়ের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ ও বাইরের সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করা। CSF (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড): মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল ও সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীতে অবস্থিত। কাজ: মস্তিষ্ককে তরলে ভাসমান রেখে অভিঘাত শোষণ (Shock absorber) করা এবং পুষ্টি-অক্সিজেন জোগানো।
22সহজাত প্রতিবর্ত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো। V.V.I
উত্তর:
বিষয়
সহজাত প্রতিবর্ত (Inborn Reflex)
অর্জিত প্রতিবর্ত (Acquired Reflex)
১. উৎপত্তি
জন্মগত সূত্রে প্রাপ্ত, বংশানুক্রমিক ও পূর্ব অভিজ্ঞতাহীন।
জন্মের পর নিয়মিত অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
২. স্থায়িত্ব
এটি চিরস্থায়ী এবং জীবদেহ থেকে কখনোই বিলুপ্ত হয় না।
নিয়মিত চর্চা না করলে কালক্রমে এটি শিথিল বা লোপ পেতে পারে।
23রেটিনার রড কোশ ও কোণ কোশের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। V.V.I
উত্তর:
বিষয়
রড কোশ (Rod cells)
কোণ কোশ (Cone cells)
১. রঞ্জক ও আলোর অনুভূতি
রোডোপসিন রঞ্জক থাকে; মৃদু আলো বা অন্ধকারে দর্শনে সক্ষম।
আয়োডোপসিন রঞ্জক থাকে; উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ দর্শনে সক্ষম।
২. সংখ্যা
সংখ্যায় অনেক বেশি (প্রায় ১১–১২.৫ কোটি)।
সংখ্যায় তুলনামূলক কম (প্রায় ৬৩–৬৮ লক্ষ)।
24একনেত্র দৃষ্টির তুলনায় মানুষের দ্বিনেত্র দৃষ্টি কেন বেশি সুবিধাজনক? V.V.I
উত্তর: দ্বিনেত্র দৃষ্টিতে মাথার সামনের দুটি চোখের দৃষ্টিক্ষেত্র পরস্পর সমপাতিত হয়ে মস্তিষ্কে একটিমাত্র ত্রিমাত্রিক (3D) প্রতিবিম্ব তৈরি করে। ফলে—
১. বস্তুর প্রকৃত গভীরতা, সঠিক রূপ ও ত্রিমাত্রিক অবস্থান অনুভব করা যায়।
২. লক্ষ্যবস্তুর নির্ভুল দূরত্ব পরিমাপ করা যায়, যা সূক্ষ্ম কাজকর্ম ও চলাফেরার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
25কাছের বস্তু দেখার সময় চোখের উপযোজনে কী কী শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে? V.V.I
উত্তর: কাছের বস্তু দেখার সময়:
১. সিলিয়ারি পেশির সংকোচন: সিলিয়ারি পেশি সংকুচিত হয়, ফলে সাসপেনসরি লিগামেন্টের টান শিথিল হয়ে যায়।
২. লেন্সের বক্রতা বৃদ্ধি: টান কমে যাওয়ায় স্থিতিস্থাপক লেন্স স্ফীত ও অধিক উত্তল হয়ে ওঠে, যার ফলে ফোকাস দৈর্ঘ্য হ্রাস পেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনায় নিবদ্ধ হয়।
চিত্র ১.৪ : অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ এবং মায়োপিয়া (অবতল লেন্স) ও হাইপারমেট্রোপিয়ার (উত্তল লেন্স) প্রতিকার কৌশল
দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (LAQ)
LAQমান ৫
বিশ্লেষণমূলক উত্তর লেখো (১–8)
1একটি আদর্শ নিউরোনের বিজ্ঞানসম্মত গঠন বর্ণনা করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলির অবস্থান ও কাজ নির্দেশ করো: (ক) ডেনড্রন, (খ) অ্যাক্সন, (গ) মায়েলিন সিদ্, (ঘ) র্যানভিয়ারের পর্ব। নিজল দানার শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা কী? [মান ৩+২=৫] V.V.I
উত্তর:
১. আদর্শ নিউরোনের প্রধান অংশসমূহের গঠন ও কাজ (চিত্র ১.১ দ্রষ্টব্য):
(ক) ডেনড্রন (Dendron): কোশদেহ থেকে নির্গত ক্ষুদ্র ও বহুশাখাযুক্ত সংজ্ঞাবহ প্রবর্ধক। ডেনড্রনের শাখাগুলিকে ডেনড্রাইট বলে। কাজ: পূর্ববর্তী নিউরোন বা গ্রাহক অঙ্গ থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোশদেহে পৌঁছে দেওয়া।
(খ) অ্যাক্সন (Axon): কোশদেহের অ্যাক্সন হিলক অংশ থেকে নির্গত দীর্ঘ, আজ্ঞাবহ এবং প্রধানত শাখাহীন প্রবর্ধক। এর সাইটোপ্লাজমকে অ্যাক্সোপ্লাজম এবং আবরণকে অ্যাক্সোলেমা বলে। কাজ: স্নায়ু উদ্দীপনাকে কোশদেহ থেকে পরবর্তী নিউরোন বা পেশি/গ্রন্থিরূপ কারক অঙ্গে দূরে বহন করে নিয়ে যাওয়া।
(গ) মায়েলিন সিদ্ (Myelin sheath): অ্যাক্সোলেমার বাইরের দিকে অবস্থিত লাইপোপ্রোটিন নির্মিত প্রতিরক্ষামূলক সাদা চর্বির আবরণী। কাজ: অ্যাক্সনকে যান্ত্রিক আঘাত ও তড়িৎ ক্ষরণ থেকে রক্ষা করে এবং অন্তরণ স্তর হিসেবে কাজ করে উদ্দীপনার অপচয় রোধ করে।
(ঘ) র্যানভিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier): অ্যাক্সনের মায়েলিন সিদ্ যে যে স্থানে মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছোট খাঁজের সৃষ্টি করে, তাকে র্যানভিয়ারের পর্ব বলে। কাজ: স্যালটেটরি পরিবাহিতা (Saltatory conduction) প্রক্রিয়ায় স্নায়ুস্পন্দনকে অতি দ্রুত এক পর্ব থেকে অন্য পর্বে লাফিয়ে লাফিয়ে সঞ্চালিত হতে সাহায্য করে।
২. নিজল দানার ভূমিকা:
নিজল দানা হলো মূলত রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন (RNP) সমৃদ্ধ ক্ষারীয় দানাদার কণা যা নিউরোনের কোশদেহ এবং ডেনড্রনে প্রচুর সংখ্যায় অবস্থান করে। এর প্রধান ভূমিকা হলো নিউরোনের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ, বৃদ্ধি ও নিউরোট্রান্সমিটার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংশ্লেষ করা। উল্লেখ্য, অ্যাক্সনে কোনো নিজল দানা থাকে না।
2স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপ্স-এর অণুগঠন বিস্তারিত আলোচনা করো। এতে নিউরোট্রান্সমিটারের ভূমিকা এবং সাইন্যাপ্সকে কেন ‘শারীরবৃত্তীয় ভালভ’ বলা হয় তা ব্যাখ্যা করো। [মান ৩+২=৫] V.V.I
উত্তর:
১. সাইন্যাপ্স-এর গঠন (চিত্র ১.২ দ্রষ্টব্য):
প্রাক-সন্নিধি স্ফীতি (Pre-synaptic Knob): পূর্ববর্তী নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তটি স্ফীত হয়ে যে বাল্বের মতো অংশ তৈরি করে, তাকে প্রাক-সন্নিধি স্ফীতি বলে। এর বাইরের পর্দাকে প্রাক-সন্নিধি পর্দা বলে। এতে প্রচুর মাইটোকনড্রিয়া ও অ্যাসিটাইলকোলিনপূর্ণ সাইন্যাপটিক ভেসিকল থাকে।
সন্নিধি প্রণালী (Synaptic Cleft): প্রাক-সন্নিধি পর্দা এবং পরবর্তী নিউরোনের পশ্চাৎ-সন্নিধি পর্দার মধ্যবর্তী প্রায় ২০-৩০ ন্যানোমিটার চওড়া সূক্ষ্ম জলীয় ফাঁকা স্থানকে সাইন্যাপটিক ক্লেফট বলে।
পশ্চাৎ-সন্নিধি পর্দা (Post-synaptic Membrane): পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনের গ্রহণকারী পর্দা, যার বহির্গাত্রে নির্দিষ্ট প্রোটিননির্মিত কেমোরিসেপ্টর উপস্থিত থাকে।
২. নিউরোট্রান্সমিটার ও একমুখী প্রবাহ (শারীরবৃত্তীয় ভালভ):
স্নায়ুস্পন্দন প্রাক-সন্নিধি স্ফীতিতে পৌঁছালে ক্যালসিয়াম আয়ন ($Ca^{2+}$) কোশে প্রবেশ করে ভেসিকলগুলিকে বিদীর্ণ করে। ফলে অ্যাসিটাইলকোলিন রাসায়নিক দূত হিসেবে মুক্ত হয়ে ক্লেফট অতিক্রম করে পোস্ট-সাইন্যাপটিক রিসেপ্টরে আবদ্ধ হয় এবং পরবর্তী কোশে নতুন ডিপোলারাইজেশন তরঙ্গ তৈরি করে।
যেহেতু সাইন্যাপটিক ভেসিকল শুধুমাত্র প্রাক-সন্নিধি প্রান্তেই থাকে এবং রিসেপ্টর কেবল পশ্চাৎ-সন্নিধি পর্দায় থাকে, তাই উদ্দীপনা সর্বদা প্রাক থেকে পশ্চাৎ—এই একমুখী পথে প্রবাহিত হয়। উল্টো দিকে কখনোই সংকেত ফিরতে পারে না বলে সাইন্যাপ্সকে 'শারীরবৃত্তীয় ভালভ' (Physiological Valve) বলা হয়।
3মানব মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির অবস্থান ও কাজ সারণি আকারে লেখো। মেনিনজেস ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)-এর দুটি করে প্রধান কাজ আলোচনা করো। [মান ৩+২=৫] V.V.I
উত্তর:
১. মানব মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির অবস্থান ও কাজ:
অংশ
অবস্থান
প্রধান কাজ
গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum)
অগ্রমস্তিষ্কের সর্ববৃহৎ অংশ; করোটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত দুটি গোলার্ধ নিয়ে গঠিত।
বুদ্ধি, চিন্তা, যুক্তি, স্মৃতি, স্বেচ্ছাধীন অঙ্গসঞ্চালন এবং দর্শন, শ্রবণ, স্পর্শ ও ঘ্রাণ অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ।
থ্যালামাস (Thalamus)
অগ্রমস্তিষ্কে গুরুমস্তিষ্কের ঠিক নিচে অবস্থিত দুটি ধূসর বর্ণের ডিম্বাকার পিণ্ড।
ঘ্রাণ বাদে সমস্ত সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর প্রধান রিলে স্টেশন হিসেবে গুরুমস্তিষ্কে প্রেরণ এবং মানসিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ।
হাইপোথ্যালামাস
থ্যালামাসের নিচে ও তৃতীয় মস্তিষ্ক প্রকোষ্ঠের মেঝের কাছে অবস্থিত।
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ (থার্মোস্ট্যাট), ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, রাগ-ক্ষোভ এবং পিটুইটারি গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ।
লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)
পশ্চাদ্মস্তিষ্কের অংশ; গুরুমস্তিষ্কের পশ্চাৎভাগে পনসের পেছনে অবস্থিত।
দেহের ভারসাম্য ও চলন নিয়ন্ত্রণ এবং কঙ্কাল পেশির টান ও অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখা।
সুষুম্নাশীর্ষক (Medulla)
পশ্চাদ্মস্তিষ্কে পনসের নিচ থেকে সুষুম্নাকাণ্ডের উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাসক্রিয়া এবং বমন, হাঁচি, কাশি ও খাদ্য গলাধঃকরণের অনৈচ্ছিক কেন্দ্র পরিচালনা।
২. মেনিনজেস ও CSF-এর কাজ:
মেনিনজেসের কাজ: (১) মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে করোটি ও মেরুদণ্ডের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ ও বাইরের আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখা। (২) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে রক্তজালকের মাধ্যমে পুষ্টি পরিবহণে সাহায্য করা।
CSF-এর কাজ: (১) মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে তরলে ভাসমান রেখে আকস্মিক ঝাঁকুনি বা অভিঘাত (Shock absorber) থেকে রক্ষা করা। (২) স্নায়ুকোষে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ ও অক্সিজেন সরবরাহ করা এবং বিপাকীয় রেচন পদার্থ অপসারণ করা।
4প্রতিবর্ত চাপ বা প্রতিবর্ত পথ (Reflex Arc) কাকে বলে? এর ৫টি প্রধান উপাদান পর্যায়ক্রমে রেখাচিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো। প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি উদাহরণ ও প্রতিরক্ষামূলক গুরুত্ব লেখো। [মান ৩+২=৫] V.V.I
উত্তর:
১. প্রতিবর্ত চাপের সংজ্ঞা ও উপাদান (চিত্র ১.৩ দ্রষ্টব্য):
যে স্নায়বিক পথ বা চক্রের মধ্য দিয়ে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুস্পন্দন আবর্তিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ (Reflex Arc) বলে। এর প্রধান ৫টি উপাদান হলো:
গ্রাহক বা রিসেপটর (Receptor): পরিবেশের সংবেদন গ্রহণকারী বিশেষ অঙ্গ বা প্রান্ত (যেমন—ত্বকের তাপ বা স্পর্শ গ্রাহক)।
সংজ্ঞাবহ বা অন্তর্বাহী স্নায়ু (Sensory Neuron): গ্রাহক থেকে সংগৃহীত উদ্দীপনাকে স্নায়ুস্পন্দনরূপে সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর পদার্থে বহন করে আনে।
স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve Centre): সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তুতে অবস্থিত সহযোগী নিউরোন, যেখানে সংজ্ঞাবহ সংকেতটি গৃহীত ও বিশ্লেষণ হয়ে আজ্ঞাবহ নির্দেশে রূপান্তরিত হয়।
আজ্ঞাবহ বা বহির্বাহী স্নায়ু (Motor Neuron): স্নায়ুকেন্দ্রের নির্দেশের সাড়া বহন করে নির্দিষ্ট কারক বা ইফেক্টরে নিয়ে যায়।
কারক বা ইফেকটর (Effector): যে অঙ্গ উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে (যেমন—হাতের কঙ্কাল পেশি যা সংকুচিত হয়)।
২. প্রাত্যহিক জীবনে দুটি বাস্তব উদাহরণ ও প্রতিরক্ষামূলক গুরুত্ব:
উদাহরণ ১ (চোখে ধুলোবালি পড়ার উপক্রম): চোখের কর্নিয়ার সামনে কোনো পোকা বা ধুলিকণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো চিন্তা করার আগেই চোখের পলক বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্ব: অক্ষিগোলককে যেকোনো অপ্রত্যাশিত বাহ্যিক আঘাত ও অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করে।
উদাহরণ ২ (শ্বাসনালীতে খাদ্যকণা প্রবেশ): কথা বলতে বলতে খাওয়ার সময় কোনো খাদ্যকণা শ্বাসনালীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তৎক্ষণাৎ তীব্র কাশি শুরু হয়। গুরুত্ব: শ্বাসনালী অবরুদ্ধ হয়ে শ্বাসরোধে প্রাণহানি হওয়া রোধ করে।
5মানব অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত অংশের কাজ বর্ণনা করো: (ক) কর্নিয়া, (খ) আইরিশ, (গ) রেটিনা, (ঘ) লেন্স। পীতবিন্দু ও অন্ধবিন্দুর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। [মান ৩+২=৫] V.V.I
উত্তর:
১. অক্ষিগোলকের বিভিন্ন অংশের কাজ (চিত্র ১.৪ দ্রষ্টব্য):
(ক) কর্নিয়া (Cornea): অক্ষিগোলকের সম্মুখের ১/৬ স্বচ্ছ উত্তল স্তর। কাজ: চোখে প্রবেশকারী অধিকাংশ আলোক রশ্মির প্রাথমিক প্রতিসরণ ঘটিয়ে লেন্সের দিকে কেন্দ্রীভূত করা।
(খ) আইরিশ (Iris): কর্নিয়ার পেছনে অবস্থিত রঙিন বৃত্তাকার পর্দা যার কেন্দ্রে তারারন্ধ্র থাকে। কাজ: উজ্জ্বল আলোয় তারারন্ধ্রকে ছোট করে এবং মৃদু আলোয় প্রসারিত করে চোখে আলোর প্রবেশ সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
(গ) রেটিনা (Retina): অক্ষিগোলকের ভেতরের সবচেয়ে সংবেদনশীল আলোকগ্রাহী স্তর। কাজ: বস্তুর উল্টো প্রতিবিম্ব গঠন করা এবং রড ও কোণ কোশের সাহায্যে আলোক শক্তিকে স্নায়ু উদ্দীপনায় রূপান্তর করে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠানো।
(ঘ) লেন্স (Lens): উভউত্তল স্বচ্ছ স্ফটিক গঠন। কাজ: আলোর চূড়ান্ত প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনার পীতবিন্দুতে নির্ভুল ফোকাস সৃষ্টি করা।
২. পীতবিন্দু ও অন্ধবিন্দুর তুলনা:
বিষয়
পীতবিন্দু (Yellow spot)
অন্ধবিন্দু (Blind spot)
১. কোশের উপস্থিতি
শুধুমাত্র ঘন সন্নিবিষ্ট কোণ কোশ উপস্থিত থাকে।
কোনো রড কোশ বা কোণ কোশ থাকে না।
২. দৃষ্টি ক্ষমতা
রেটিনার সবচেয়ে স্পষ্ট ও নিখুঁত প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
এখানে আলো পড়লেও কোনো দৃষ্টিানুভূতি উৎপন্ন হয় না।
6চোখের উপযোজন (Accommodation) কৌশলটি ব্যাখ্যা করো। মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া দৃষ্টিজনিত ত্রুটি কী কারণে ঘটে এবং উপযুক্ত লেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে এদের সংশোধন করা যায় তা লেখো। [মান ২+৩=৫] V.V.I
উত্তর:
১. চোখের উপযোজন কৌশল:
দূরের বস্তু দর্শন: দূরবর্তী বস্তু থেকে সমান্তরাল আলোক রশ্মি চোখে প্রবেশের সময় সিলিয়ারি পেশি শিথিল হয়। এতে সাসপেনসরি লিগামেন্টে টান বৃদ্ধি পায় এবং লেন্স চ্যাপ্টা ও পাতলা হয়। ফলে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়ে রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
নিকটবর্তী বস্তু দর্শন: নিকটবর্তী বস্তুর ক্ষেত্রে সিলিয়ারি পেশি সংকুচিত হয় এবং সাসপেনসরি লিগামেন্টের টান কমে যায়। ফলে স্থিতিস্থাপক লেন্স স্ফীত ও অধিক উত্তলাকার ধারণ করে। এতে লেন্সের বক্রতা বৃদ্ধি পায় ও ফোকাস দূরত্ব হ্রাস পেয়ে প্রতিবিম্ব রেটিনায় নিবদ্ধ হয়।
২. মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া ত্রুটি ও লেন্স সংশোধন (চিত্র ১.৪ দ্রষ্টব্য):
ত্রুটির নাম
লক্ষণ
উৎপত্তির কারণ
সংশোধন পদ্ধতি
মায়োপিয়া (নিকটবদ্ধ দৃষ্টি)
কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু দূরের বস্তু ঝাপসা ও অস্পষ্ট দেখায়।
অক্ষিগোলকের অক্ষের দৈর্ঘ্য বা ব্যাস স্বাভাবিক অপেক্ষা বৃদ্ধি পেলে বা লেন্সের বক্রতা বাড়লে প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে পড়ে।
উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের অবতল লেন্স (Concave Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে রশ্মি অপসারিত হয়ে সঠিকভাবে রেটিনায় প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরবদ্ধ দৃষ্টি)
দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু কাছের বস্তু অস্পষ্ট ও ঝাপসা দেখায়।
অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিক অপেক্ষা ছোট হলে বা লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বেড়ে গেলে প্রতিবিম্ব রেটিনার পেছনে পড়ে।
উপযুক্ত ক্ষমতার উত্তল লেন্স (Convex Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে রশ্মি অভিসারী হয়ে ঠিক রেটিনার ওপর প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
7নিউরোগ্লিয়া কী? কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বিভিন্ন প্রকার নিউরোগ্লিয়া কোশের ভূমিকা লেখো। স্নায়ুকোশ, স্নায়ুতন্তু এবং স্নায়ুর মধ্যকার পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক ছক বা প্রবাহচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। [মান ১+২+২=৫]
উত্তর:
১. নিউরোগ্লিয়ার সংজ্ঞা ও বিভিন্ন প্রকারের ভূমিকা:
স্নায়ুতন্ত্রে নিউরোন ব্যতীত যে পরিবর্তিত যোগকলা উপাদান স্নায়ুকলাস্থ কোশসমষ্টির প্রায় ৯০% অংশ গঠন করে এবং ধারক ও পুষ্টি কোশ হিসেবে কাজ করে, তাকে নিউরোগ্লিয়া বলে।
অ্যাস্ট্রোসাইট: তারকাকার বৃহৎ কোশ যা রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (BBB) গঠন করে ক্ষতিকর বস্তু প্রবেশে বাধা দেয় ও পুষ্টি জোগায়।
অলিগোডেনড্রোগ্লিয়া: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিউরোনের অ্যাক্সনকে ঘিরে মায়েলিন আবরণী তৈরি করে।
মাইক্রোগ্লিয়া: ক্ষুদ্রাকৃতির ফ্যাগোসাইটিক কোশ যা মৃত স্নায়ুকোশ ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণ করে প্রতিরক্ষা দেয়।
অর্থাৎ, নিউরোন হলো স্নায়ুর মূল কোষীয় উপাদান, এর দীর্ঘ অ্যাক্সন হলো স্নায়ুতন্তু, এবং সেই তন্তুগুচ্ছ ত্রিস্তরীয় যোগকলার আবরণে বেষ্টিত হয়ে তৈরি করে সামগ্রিক স্নায়ু বা নার্ভ।
8একনেত্র দৃষ্টি ও দ্বিনেত্র দৃষ্টির তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো। প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) ও ক্যাটারাক্ট (Cataract) চোখের ত্রুটির কারণ ও প্রতিকার পদ্ধতি আলোচনা করো। [মান ৩+২=৫]
উত্তর:
১. একনেত্র দৃষ্টি ও দ্বিনেত্র দৃষ্টির তুলনামূলক পার্থক্য:
বিষয়
একনেত্র দৃষ্টি (Monocular vision)
দ্বিনেত্র দৃষ্টি (Binocular vision)
১. চোখের অবস্থান
মাথার দুই পাশে দুটি চোখ অবস্থিত।
মাথার সম্মুখভাগে দুটি চোখ অবস্থিত।
২. প্রতিবিম্ব সৃষ্টি
একই সময়ে দুটি চোখ দিয়ে দুটি পৃথক বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
একই সময়ে দুটি চোখ দিয়ে একই বস্তুর ওপর দৃষ্টি সমপাতিত হয়ে একটিমাত্র ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
৩. গভীরতা ও দূরত্ব নির্ণয়
বস্তুর সঠিক গভীরতা ও নির্ভুল দূরত্ব নির্ণয় করা যায় না।
বস্তুর ত্রিমাত্রিক রূপ, নির্ভুল অবস্থান ও দূরত্ব নিখুঁতভাবে বোঝা যায়।
৪. উদাহরণ
গরু, ঘোড়া, ব্যাঙ, খরগোশ।
মানুষ, বানর, পেঁচা, বাঘ, শিকারী পাখি।
২. প্রেসবায়োপিয়া ও ক্যাটারাক্ট ত্রুটি ও প্রতিকার:
প্রেসবায়োপিয়া (চালশে): বয়স বৃদ্ধির কারণে (সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর) লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সিলিয়ারি পেশি দুর্বল হয়। ফলে কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখায়। প্রতিকার: উপযুক্ত ক্ষমতার উত্তল লেন্স বা বাইফোকাল লেন্স (Bifocal lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা। এতে চশমার ওপরের অংশে অবতল ও নিচের অংশে উত্তল লেন্স থাকে।
ক্যাটারাক্ট (চোখে ছানি পড়া): সাধারণত বার্ধক্যজনিত কারণে লেন্সে প্রোটিনের জমাট বাঁধা স্তর তৈরি হয়ে সম্পূর্ণ লেন্সটি ক্রমশ অস্বচ্ছ ও ঘোলাটে হয়ে ওঠে, ফলে আলোকরশ্মি প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মক লোপ পায়। প্রতিকার: শল্যচিকিৎসা বা আধুনিক ফ্যাকো অস্ত্রোপচারের (Phaco Surgery) মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্সটি সম্পূর্ণ অপসারণ করে কৃত্রিম প্লাস্টিক বা সিলিকন লেন্স (ইন্ট্রাঅকুলার লেন্স বা IOL) প্রতিস্থাপন করা।
এই অধ্যায়ের প্রতিটি প্রশ্ন ও সমাধান মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির সর্বশেষ সিলেবাস এবং পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ব্লু-প্রিন্ট অনুসারে পুঙ্খানুপুঙ্খ সংকলিত, যা ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।