দশম শ্রেণীর ভূগোল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন | Class 10 Geography Chapter 4
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর ভূগোল ধ্যায় 'বর্জ্য ব্যবস্থাপনা' থেকে গুরুত্বপূর্ণ বহ্বিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর।
মাধ্যমিক ভূগোল চূড়ান্ত সাজেশন: 'বর্জ্য ব্যবস্থাপনা' (Waste Management)
(প্রদত্ত পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠাগুলির ওপর ভিত্তি করে ১০০% কমন সাজেশন)
নিচে মাধ্যমিক ভূগোল দশম শ্রেণির 'বর্জ্য ব্যবস্থাপনা' ধ্যায় থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহ্বিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত (VSAQ), সংক্ষিপ্ত (SAQ), ব্যাখ্যামূলক এবং রচনাধর্মী (LAQ) প্রশ্নগুলি দেওয়া হলো। এই প্রশ্নগুলো আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়বস্তু সূচিপত্র:
MCQ প্রশ্ন (১–১৪)
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১–৩৩)
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন মান ২ (১–১৪)
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন মান ৩ (১–১০)
রচনাধর্মী প্রশ্ন মান ৫ (১–৬)
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) MCQ মান ১
১মানবশরীরে দূষিত জল থেকে সৃষ্টি হয়—
উত্তরকআমাশয়
২ফোলিয়াস একটি—
উত্তরকজৈব বর্জ্য
৩যানবাহনের কার্বনকণা নির্গমন রোধের জন্য ব্যবহার করা হয়—
উত্তরগস্ক্রাবার
৪অকেজো মোবাইল একটি—
উত্তরগই-বর্জ্য
৫ফ্লাই অ্যাশ উৎপন্ন হয়—
উত্তরকতাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে
৬জীব বিশ্লেষ্য বর্জ্যগুলিকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিশ্লেষণ করার পদ্ধতিকে বলে—
উত্তরগকম্পোস্টিং
৭কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে নির্মিত হয়—
উত্তরকজৈব সার
৮উচ্চ তাপমাত্রায় বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার যন্ত্র হল—
উত্তরকইনসিনেরেটর
৯একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য বর্জ্য হল—
উত্তরগইওয়েস্ট
১০'গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান' গৃহীত হয়—
উত্তরখ1985 খ্রিস্টাব্দে
১১বিপজ্জনক বর্জ্য ফেলার জায়গাকে বলে—
উত্তরকসিকিওর ল্যান্ড ফিল
১২নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে পরিবেশে সর্বাধিক ক্ষতিকারক দূষক হলো—
উত্তরকপলিথিন
১৩বিষাক্ত নয় এমন একটি বর্জ্য পদার্থের উদাহরণ হল—
উত্তরকধানের খোসা
১৪নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে বিষাক্ত বর্জ্য হল—
উত্তরকপারদ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন VSAQ মান ১
শূন্যস্থান পূরণ করো:
১যে সকল বর্জ্য বিয়োজিত হয়ে জল, মাটি ও বাতাসের সঙ্গে মিশে যায় তাকে _______ বলে।
উত্তর: জীববিশ্লেষ্য বর্জ্য
২কাগজ থেকে পুনরায় কাগজ উৎপাদন _______ প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
উত্তর: পুনর্নবীকরণ
৩D.D.T.-এর পুরো কথা _______।
উত্তর: ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইক্লোরোইথেন
৪ফ্লাই অ্যাশ _______ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
উত্তর: ইট বা সিমেন্ট
৫চিনি শিল্পের বর্জ্য পদার্থকে _______ বলে।
উত্তর: ছিবড়া বা ব্যাগাসি
৬_______ দূষণের ফলে মিনামাটা রোগ হয়।
উত্তর: পারদ
৭কেঁচোর সাহায্যে বর্জ্য পদার্থের বিয়োজন ঘটানোর প্রক্রিয়াকে _______ বলে।
উত্তর: ভার্মিকম্পোস্টিং
৮বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় _______ তারিখে।
উত্তর: ৫ জুন
৯কচুরিপানা দ্বারা জলাশয় ঢেকে গেলে ওই জলাশয়ের প্রাণীদের অক্সিজেনের অভাবে মরে যাওয়াকে বলে _______।
উত্তর: ইউট্রোফিকেশন
১০পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্যকে _______ বর্জ্য বলে।
উত্তর: তেজস্ক্রিয়
১১ব্যবহৃত ইনজেকশন সিরিঞ্জ একটি _______ বর্জ্য।
উত্তর: চিকিৎসাজাত বা সংক্রামক
শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্বাচন করো:
১ভরাটকরণ প্রক্রিয়ায় আবর্জনার পচনে হিউমাস তৈরি হয়।
উত্তর: শুদ্ধ
২পৌরসভার জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করা হয়।
উত্তর: শুদ্ধ
৩স্ক্র্যাপ থেকে নতুন করে লোহা প্রস্তুতকে পুনর্নবীকরণ পদ্ধতি বলে।
উত্তর: শুদ্ধ
৪গ্রামাঞ্চলে ম্যানিওরপিট দেখা যায়।
উত্তর: শুদ্ধ
৫লিচেট ভৌমজলকে দূষিত করে।
উত্তর: শুদ্ধ
৬নদীর জলে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে কলিফর্ম বলে।
উত্তর: অশুদ্ধ (কলিফর্ম হলো ব্যাকটেরিয়ার সূচক)
৭কঠিন বর্জ্য দৃশ্য দূষণ ঘটায়।
উত্তর: শুদ্ধ
৮কম্পিউটারের বাতিল ক্যাবিনেট পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য।
উত্তর: শুদ্ধ
৯ব্যাঙ্গালোর পদ্ধতিতে সবাত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা কম্পোস্ট সার উৎপন্ন হয়।
উত্তর: অশুদ্ধ (অবাত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়)
১০সিমেন্ট কারখানা থেকে উৎপাদিত বর্জ্য পদার্থ বায়ুদূষণ ঘটায়।
উত্তর: শুদ্ধ
১১আর্সেনিক একটি বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ।
উত্তর: শুদ্ধ
১২দূষিত বাতাসকে স্ক্রাবারের সাহায্যে পরিশুদ্ধ করা হয়।
উত্তর: শুদ্ধ
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও:
১প্লাস্টিক কোনো ধরনের বর্জ্য?
উত্তর: জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্য
২দুটি সংক্রামক বর্জ্যের নাম লেখো।
উত্তর: ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা তুলো
৩দুটি কঠিন বর্জ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: প্লাস্টিক, ভাঙা কাঁচ
৪গৃহস্থালি তরল বর্জ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: কাপড় কাচার জল, শৌচাগারের জল
৫বিদ্যালয়ের একটি বর্জ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: চক, ভাঙা পেন
৬একটি জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যের নাম করো।
উত্তর: ফলের খোসা বা তরকারির খোসা
৭কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে কীসের দ্বারা জৈব পদার্থের পচন ঘটানো হয়?
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব
৮তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের উৎস কী?
উত্তর: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
৯চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য কোনো যন্ত্রের সাহায্যে বিশ্লিষ্ট হয়?
উত্তর: ইনসিনেরেটর
১০কঠিন বর্জ্যের অক্সিজেনবিহীন দহনকে কী বলে?
উত্তর: অবাত দহন বা পাইরোলাইসিস
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন SAQ মান ২
১বর্জ্য পদার্থ কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহারের পর যে সমস্ত পদার্থের আর কোনো উপযোগিতা থাকে না এবং যা পরিবেশে পরিত্যক্ত হয়ে দূষণ ছড়ায়, তাদের বর্জ্য পদার্থ বলে। উদাহরণ: গৃহস্থালির আবর্জনা, পলিথিন।
২বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?
উত্তর: পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বর্জ্য পদার্থের সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াকরণ ও নিরাপদ অপসারণ বা পুনর্ব্যবহারের সামগ্রিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে।
৩ব্যাগাসি (Bagasse) কী?
উত্তর: চিনি কলে ইক্ষু থেকে রস নিষ্কাশনের পর যে ছিবড়ে বা অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকে, তাকে ব্যাগাস বা ব্যাগাসি (Bagasse) বলে। এটি জ্বালানি বা কাগজ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৪লিচেট কী?
উত্তর: কঠিন বর্জ্যের স্তূপ বা ল্যান্ডফিলের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে নীচের দিকে নামার সময় বর্জ্যের বিভিন্ন দূষক ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ওই জলে দ্রবীভূত হয়। এই বিষাক্ত জলকে লিচেট (Leachate) বলে। এটি ভৌমজলকে দূষিত করে।
৫ওশান ডাম্পিং কী?
উত্তর: শহর বা শিল্পাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ কঠিন, তরল বা বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থকে জাহাজে করে সমুদ্রের গভীরে গিয়ে ফেলার পদ্ধতিকে ওশান ডাম্পিং (Ocean Dumping) বলা হয়।
৬ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল কী?
উত্তর: শহরের বাইরে কোনো নিচু জলাভূমি বা খাদে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কঠিন বর্জ্য পদার্থগুলি স্তরে স্তরে ফেলে মাটি বা ছাই দিয়ে ঢেকে ভরাট করার পদ্ধতিকে ল্যান্ডফিল বা ভরাটকরণ বলে।
৭ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে?
উত্তর: কৃষিজমির রাসায়নিক সার ও ডিটারজেন্ট ধোয়া জল জলাশয়ে মিশলে জলে পুষ্টি উপাদান (ফসফেট ও নাইট্রেট) বেড়ে গিয়ে শৈবালের অতিবৃদ্ধি ঘটে এবং জলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। একে ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বলে।
৮বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থকে বিশেষ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নতুন কোনো সম্পদে বা ন্য কোনো ব্যবহারযোগ্য জিনিসে পরিণত করার পদ্ধতিকে বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ (Recycling) বলে। যেমন: পুরোনো কাগজ থেকে নতুন কাগজ তৈরি।
৯বর্জ্য ব্যবস্থাপনার 3R কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: 3R কথাটির অর্থ হলো Reduce, Reuse এবং Recycle। অর্থাৎ বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করা, বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার করা এবং বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ করা।
১০বিষহীন বর্জ্য কী?
উত্তর: যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ পরিবেশ, মানুষ বা ন্য জীবজগতের কোনো মারাত্মক ক্ষতি করে না বা সরাসরি বিষক্রিয়া ঘটায় না, তাদের বিষহীন বর্জ্য বলে। যেমন— কৃষিজ বর্জ্য, শাকসবজির খোসা।
১১বিষাক্ত বর্জ্যের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: যে সমস্ত রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পরিবেশে মিশে জীবকুলে দীর্ঘস্থায়ী বিষক্রিয়া ঘটায় বা মারণরোগ সৃষ্টি করে, তাদের বিষাক্ত বর্জ্য বলে। যেমন— পারদ, ক্যাডমিয়াম, সিসা।
১২বর্জ্যের পৃথকীকরণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বর্জ্য পদার্থগুলিকে তাদের বৈশিষ্ট্য ন্যায়ী আলাদা করাকে বর্জ্যের পৃথকীকরণ (Segregation) বলে। যেমন: জৈব ভঙ্গুর ও অভঙ্গুর বর্জ্য আলাদা ডাস্টবিনে রাখা।
১৩'কঠিন বর্জ্য' পদার্থের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: দৈনন্দিন কাজ বা বিভিন্ন শিল্প থেকে উৎপন্ন যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ কঠিন অবস্থায় থাকে এবং সহজে প্রবাহিত হতে পারে না, তাদের কঠিন বর্জ্য বলে। উদাহরণ: কাঁচ, লোহা, প্লাস্টিক।
১৪কম্পোস্টিং বলতে কী বোঝো?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়া ও ন্যান্য অণুজীবের সাহায্যে পচনশীল জৈব বর্জ্য পদার্থকে বিয়োজিত করে হিউমাস সমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট জৈব সারে পরিণত করা হয়, তাকে কম্পোস্টিং বলে।
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন LAQ মান ৩
১ভাগীরথী-হুগলি নদীর উপর বর্জ্যের প্রভাব লেখো।
উত্তর: ভাগীরথী-হুগলি নদীর দু-তীরে অসংখ্য শিল্পকারখানা ও শহর গড়ে উঠেছে। এসব অঞ্চলের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ায় নদীর জল মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। জলের BOD (Biological Oxygen Demand) বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলজ বাস্ত্তন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া কঠিন বর্জ্য জমে নদীর নাব্যতাও হ্রাস পাচ্ছে।
২জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. পচনশীলতা:
২. দূষণের মাত্রা:
৩. ব্যবস্থাপনা:
২. দূষণের মাত্রা:
৩. ব্যবস্থাপনা:
৩কম্পোস্টিং কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়া ও ন্যান্য অণুজীবের সাহায্যে পচনশীল জৈব বর্জ্য পদার্থকে বিয়োজিত করে হিউমাস সমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট জৈব সারে পরিণত করা হয়, তাকে কম্পোস্টিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সার কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়। গ্রামাঞ্চলে ম্যানিওরপিট এবং শহরাঞ্চলে বৃহৎ কম্পোস্ট প্ল্যান্টের সাহায্যে এটি করা হয়।
৪তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনার উপায়গুলি লেখো।
উত্তর: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন:
১. অত্যন্ত পুরু সিসা বা কংক্রিটের পাত্রে সিল করে এই বর্জ্য সংরক্ষণ করা হয় যাতে তেজস্ক্রিয়তা বাইরে না ছড়ায়।
২. জনবসতিহীন গভীর সমুদ্রের তলদেশে বা মাটির গভীরে এগুলোকে পুঁতে রাখা হয়।
৩. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।
৫'নমামি গঙ্গে' কী?
উত্তর: গঙ্গা নদীর দূষণ রোধ এবং নদীকে পরিষ্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে ভারত সরকার 'নমামি গঙ্গে' (Namami Gange) প্রকল্পটি চালু করে। এর মূল উদ্দেশ্যগুলি হলো— নদীর জল শোধন, নদীর পাড় সংস্কার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৬স্বচ্ছ ভারত অভিযান কী?
উত্তর: ভারত সরকার ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর সমগ্র দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং খোলা জায়গায় শৌচকর্ম বন্ধ করতে 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান' শুরু করে। এর উদ্দেশ্য হলো— প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় নির্মাণ, কঠিন ও তরল বর্জ্যের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।
৭গৃহস্থালি বর্জ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা সম্ভব?
উত্তর: গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৩টি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
১. বর্জ্য পৃথকীকরণ: পচনশীল বর্জ্য (সবজির খোসা) এবং অপচনশীল বর্জ্য (প্লাস্টিক) আলাদা ডাস্টবিনে রাখতে হবে।
২. কম্পোস্টিং: পচনশীল বর্জ্য দিয়ে বাড়ির বাগানে বা টবে জৈব সার তৈরি করা।
৩. পুনর্ব্যবহার: পুরোনো খবরের কাগজ, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে না দিয়ে ন্য কাজে ব্যবহার বা বিক্রি করে দেওয়া।
৮জীব বিশ্লেষ্য ও জীব অবিশ্লেষ্য বর্জ্যের ধারণা বিবৃত করো।
উত্তর: যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ প্রকৃতিতে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয়ে সহজেই মাটির সাথে মিশে যায়, তাদের জীব বিশ্লেষ্য বা জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলে। যেমন— কৃষিজ বর্জ্য, প্রাণীর মলমূত্র।
ন্যদিকে, যে সমস্ত বর্জ্য জীবাণু দ্বারা বিয়োজিত হয় না এবং বছরের পর বছর অবিকৃত অবস্থায় থেকে পরিবেশ দূষণ ঘটায়, তাদের জীব অবিশ্লেষ্য বা জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য বলে। যেমন— প্লাস্টিক, কাঁচ, ডিডিটি।
৯বর্জ্য দ্রব পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর কেন?
উত্তর: বর্জ্য পদার্থ একাধিক উপায়ে পরিবেশের ক্ষতি করে:
১. আবর্জনা স্তূপাকার হলে তা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও বায়ুদূষণ ঘটায়।
২. প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য মাটির স্বাভাবিক বায়ু চলাচলে বাধা দেয় এবং উর্বরতা কমায়।
৩. শিল্পজাত রাসায়নিক বর্জ্য জলে মিশে জলজ বাস্ত্তন্ত্র ধ্বংস করে এবং জল দূষিত করে।
১০বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলি হলো:
১. পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং বাস্ত্তন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখা।
২. মশা-মাছির উপদ্রব কমানো এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো।
৩. আবর্জনা থেকে জৈব সার বা বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদের পুনর্ব্যবহার করা।
৪. দৃশ্য দূষণ রোধ করে পরিবেশকে সুন্দর রাখা।
রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন LAQ মান ৫
১বর্জ্য পদার্থের বিভিন্ন উৎসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: বর্জ্য পদার্থের প্রধান উৎসগুলি হলো:
দৈনন্দিন কাজের পর পরিত্যক্ত সামগ্রী, যেমন— শাকসবজির খোসা, ছাই, পলিথিন, পুরোনো কাগজ ইত্যাদি।
কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য, যেমন— চর্মশিল্পের রাসায়নিক, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ইত্যাদি।
কৃষিকাজের ফলে উৎপন্ন বর্জ্য, যেমন— ধানের তুষ, খড়, কীটনাশক মিশ্রিত জল।
হাসপাতাল ও নার্সিংহোম থেকে উৎপন্ন রক্তমাখা তুলো, স্যালাইন বোতল, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ইত্যাদি।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র থেকে নির্গত ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের অবশিষ্টাংশ।
বাতিল হওয়া মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি, ব্যাটারি ইত্যাদি বৈদ্যুতিক বর্জ্য।
২বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 4R-এর গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 4R অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা। 4R হলো:
বর্জ্যের উৎপাদন কমানো। যেমন— প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা। এর ফলে উৎস স্থলেই বর্জ্য হ্রাস পায়।
ফেলে দেওয়ার আগে কোনো জিনিস বারবার ব্যবহার করা। যেমন— প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়া বা জ্যামের খালি শিশি মশলা রাখতে ব্যবহার করা।
বর্জ্যকে প্রক্রিয়াকরণ করে নতুন সম্পদ তৈরি করা। যেমন— বাতিল কাগজ থেকে নতুন কাগজ বা স্ক্র্যাপ লোহা গলিয়ে নতুন লোহা তৈরি। এতে কাঁচামালের সাশ্রয় হয়।
পরিবেশ দূষণকারী বস্তু ব্যবহার বর্জন করা। যেমন— থার্মোকলের থালা বা সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক সম্পূর্ণ বর্জন করা।
এই 4R নীতি প্রয়োগ করলে পরিবেশের দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব এবং সম্পদের অপচয় রোধ হয়।
৩বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা লেখো।
উত্তর: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একজন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে:
শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবার, প্রতিবেশী এবং সমাজের ন্যান্য মানুষকে বর্জ্যের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে পারে।
নিজের বাড়িতে এবং বিদ্যালয়ে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
বিদ্যালয়ে ইকো-ক্লাব গঠন করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মডেল তৈরি করতে পারে।
প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করা।
দৈনন্দিন জীবনে বর্জ্য কমানো (Reduce) এবং জিনিসের পুনর্ব্যবহার (Reuse) করার মানসিকতা গড়ে তোলা।
৪পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাব লেখো।
উত্তর: পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ক্ষতিকর:
বর্জ্য পদার্থ পচে গিয়ে মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড প্রভৃতি গ্যাস নির্গত করে যা মারাত্মক দুর্গন্ধ ও বায়ু দূষণ ঘটায়।
শিল্পাঞ্চলের রাসায়নিক বর্জ্য এবং গৃহস্থালির তরল বর্জ্য সরাসরি নদী বা জলাশয়ে মিশলে জল দূষিত হয়, ইউট্রোফিকেশন ঘটে এবং মাছসহ জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়।
প্লাস্টিক বা রাসায়নিক বর্জ্য মাটিতে মিশলে মাটির অমুলতা বাড়ে, উর্বরতা নষ্ট হয় এবং অণুজীবদের মৃত্যু হয়।
ল্যান্ডফিলের লিচেট চুঁইয়ে মাটির নীচে প্রবেশ করলে পানীয় ভৌমজল বিষাক্ত হয়ে যায়।
বর্জ্য স্তূপে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে, যা ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরার মতো মারণরোগ ছড়ায়।
৫বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাকে বলে? এর পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: সংজ্ঞা:
পদ্ধতিসমূহ: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ হলো উৎসস্থলেই বর্জ্যকে প্রকৃতি অনুসারে আলাদা করা (যেমন— জৈব ও অজৈব)। শহরের বাইরে নিচু জলাভূমি বা খাদে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কঠিন বর্জ্য স্তরে স্তরে ফেলে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। জৈব বা পচনশীল বর্জ্যকে গর্তে জমা করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পচিয়ে জৈব সারে পরিণত করা হয়। বায়ু দূষক গ্যাসীয় বর্জ্যগুলি কারখানার চিমনি থেকে নির্গত হওয়ার সময় স্ক্রাবারের মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়।
পদ্ধতিসমূহ: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ হলো উৎসস্থলেই বর্জ্যকে প্রকৃতি অনুসারে আলাদা করা (যেমন— জৈব ও অজৈব)। শহরের বাইরে নিচু জলাভূমি বা খাদে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কঠিন বর্জ্য স্তরে স্তরে ফেলে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। জৈব বা পচনশীল বর্জ্যকে গর্তে জমা করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পচিয়ে জৈব সারে পরিণত করা হয়। বায়ু দূষক গ্যাসীয় বর্জ্যগুলি কারখানার চিমনি থেকে নির্গত হওয়ার সময় স্ক্রাবারের মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়।
৬প্রকৃতি অনুসারে বর্জ্যের উদাহরণসহ শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর: বর্জ্য পদার্থের ভৌত অবস্থা ও প্রকৃতি অনুসারে এদের প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়:
যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ কঠিন অবস্থায় থাকে। যেমন— প্লাস্টিকের বোতল, কাঁচের টুকরো, ইট-পাথর, ছাই, ফ্লাই অ্যাশ।
যে সমস্ত বর্জ্য তরল অবস্থায় থাকে এবং প্রবাহিত হতে পারে। যেমন— কলকারখানার রাসায়নিক জল, নর্দমার জল, ডিটারজেন্ট মেশানো জল।
গ্যাসীয় অবস্থায় থাকা বর্জ্য পদার্থ যা মূলত বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। যেমন— কারখানার চিমনি ও যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি।
এছাড়া পচনশীলতার ভিত্তিতে বর্জ্যকে জৈব ভঙ্গুর (সবজির খোসা) এবং জৈব অভঙ্গুর (প্লাস্টিক) হিসেবেও ভাগ করা যায়।