পর্যায় সারণি ও মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা - Class 10 Physical Science

পর্যায় সারণি ও মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা - Class 10 Physical Science

দশম শ্রেণীর ভৌতবিজ্ঞান: পর্যায় সারণি ও মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা অধ্যায়ের সম্পূর্ণ আলোচনা। মেন্ডেলিফের পর্যায় সূত্র, আধুনিক পর্যায় সারণি, ক্ষার ধাতু, হ্যালোজেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন-উত্তর।

পর্যায় সারণী ও মৌলদের ধর্মের পর্যায়বৃত্ততা

বর্তমানে প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট স্বীকৃত মৌলের সংখ্যা 118। ডোবেরাইনার, স্যাকুর্তোয়া, নিউল্যান্ডস, লোথার মেয়ার, মেন্ডেলিভ প্রমুখ বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি হিসাবে মৌলগুলিকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী বর্তমান পর্যায় সারণিতে সুবিন্যস্ত করা সম্ভব হয়।

1817 খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী জন ডোবেরিনার তাঁর ত্রয়ী সূত্রের মাধ্যমে মৌলগুলিকে শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

Q. ডোবেরিনারের ত্রয়ী সূত্রটি লেখো 2019 ও ব্যাখ্যা দাও।
= রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য আছে এমন তিনটি করে মৌলকে পারমাণবিক ভরের ক্রমানুযায়ী সাজিয়ে এক-একটি শ্রেণি গঠন করলে মাঝের মৌলটির পারমাণবিক ভর অন্য দুটি মৌলের পারমাণবিক ভরের গড়ের প্রায় সমান হয়।
ব্যাখ্যা: লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম এই তিনটি মৌলের পারমাণবিক গুরুত্ব যথাক্রমে 7, 23 ও 39।
ডোবেরিনারের ত্রয়ী সূত্রানুসারে সোডিয়ামের পারমাণবিক গুরুত্ব = (7 + 39) / 2 = 23।

Li(7) Ca(40) Cl(35.5) S(32)
Na(23) Sr(88) Br(80) Se(79)
K(39) Ba(137) I(127) Te(128)
Q. মৌলের শ্রেণিবিন্যাসে ত্রয়ী সূত্রটি বিশেষ সহায়ক হয়নি কেন?
= ত্রয়ী সূত্র বর্জিত হওয়ার কারণ বা এর সীমাবদ্ধতা :
1. বিজ্ঞানী ডোবেরিনার সেই সময়ে আবিষ্কৃত মৌলগুলির মধ্যে থেকে কেবল চারটি ত্রয়ী গঠন করেন। বাকি মৌলগুলির ক্ষেত্রে এই সূত্রটি প্রযোজ্য নয়।
2. একই শ্রেণিতে অবস্থিত অর্থাৎ, সমধর্মী সকল মৌলের ক্ষেত্রে এই সূত্র প্রযোজ্য হয় না। যেমন - N(14), P(31) ও As(74.9)-এর ক্ষেত্রে এই সূত্র প্রযোজ্য নয়।
Q. নিউল্যান্ডস-এর অষ্টক সূত্রটি লেখো ও ব্যাখ্যা করো।
= মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজিয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট মৌল থেকে শুরু করলে প্রতি অষ্টম মৌলে প্রথম মৌলের ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

ব্যাখ্যা: Li থেকে শুরু করে পরের অষ্টম মৌল হয় Na এবং Na থেকে শুরু করে পরের অষ্টম মৌল হয় K। প্রকৃতপক্ষে Li, Na এবং K-এর মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের অনেক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

ক্রমিক সংখ্যা 1 2 3 4 5 6 7
Musical notes সা রে গা মা পা ধা নি
মৌলসমূহের H(1) Li(7) Be(9) B(10.8) C(12) N(14) O(16)
পারমাণবিক F(19) Na(23) Mg(24) Al(27) Si(28) P(31) S(32)
ভর ≤ 40 Cl(35.5) K(39) Ca(40)
Q. নিউল্যান্ডস এর অষ্টক সূত্রের ত্রুটি লেখ।
= হাইড্রোজেন (H) থেকে ক্যালশিয়াম (Ca) পর্যন্ত হালকা মৌলগুলির ক্ষেত্রে নিউল্যান্ডসের অষ্টক সূত্র প্রযোজ্য হলেও ভারী মৌলগুলির ক্ষেত্রে এটি অচল হয়ে পড়ে, তাই এটি পরিত্যক্ত হয়।
Q. মৌলের শ্রেণিবিন্যাসে বিজ্ঞানী লোথার মেয়ারের অবদান মূল্যায়ন করো।
= জার্মান বিজ্ঞানী লোথার মেয়ার প্রথম সমভৌতধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলিকে একই শ্রেণিভুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বিভিন্ন মৌলের পারমাণবিক আয়তনকে Y অক্ষ বরাবর এবং পারমাণবিক ভরকে X অক্ষ বরাবর স্থাপন করে যে লেখচিত্র পান সেটি দেখতে সপ্তশীর্ষ তরঙ্গের মতো। একে পারমাণবিক আয়তন লেখ বলে।
লোথার মেয়ার তার এই লেখচিত্রে লক্ষ্য করেন যে, লেখচিত্রে সমধর্মী মৌলগুলির অবস্থান এক প্রকারের হয়। যেমন-
(1) ক্ষারধাতুগুলির (Li, Na, K, Rb, Cs) পারমাণবিক আয়তন সর্বাধিক হয় এবং ইহারা লেখচিত্রের প্রতি তরঙ্গের শীর্ষে অবস্থান করে。
(2) ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলি (Mg, Ca, Sr, Ba) ক্রমহ্রাসমান অংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে।
(3) হ্যালোজেন মৌলগুলি (F, Cl, Br, I) ক্রমবর্ধমান অংশে অবস্থান করে।
উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ থেকে লোথার মেয়ার স্বতন্ত্রভাবে একটি পর্যায়-সূত্র প্রকাশ করেছিলেন যা মেন্ডেলিভের পর্যায়-সূত্রের অনুরূপ। সেটি হল - মৌলগুলির ভৌতধর্মসমূহ পারমাণবিক গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয়।
মেন্ডেলিভ ও লোথার মেয়ার দুজনেই পর্যায়-সূত্রের বিষয়ে গবেষণার জন্য স্বীকৃতি পেলেও মেন্ডেলিভের সূত্রটি সামান্য আগে প্রকাশিত হওয়ায় পর্যায়-সূত্রের সঙ্গে মেন্ডেলিভের নামই সচরাচর উচ্চারিত হয়। কিন্তু মৌলের পর্যাবৃত্তি সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং পর্যাবৃত্তি অনুসারে মৌলের শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে লোথার মেয়ারের অবদান অনস্বীকার্য।

জেনে রেখো: পরবর্তীকালে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যার সাপেক্ষে লেখচিত্র অঙ্কন করলেও দেখা যায় লেখচিত্রটি একই প্রকৃতির হয়।

  • কোনো মৌলের গ্রাম পারমাণবিক ভর এবং ঘনত্ব (g/cc) এর অনুপাতকে ওই মৌলের পারমাণবিক আয়তন বলে।
    মৌলের পারমাণবিক আয়তন = গ্রাম পারমাণবিক ভর / ঘনত্ব (g/cc)
Q. মেন্ডেলিভের পর্যায়-সূত্রটি বিবৃত করো।
= বিভিন্ন মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মগুলি তাদের পারমাণবিক গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয়।

জেনে রেখো : মেন্ডেলিভকে পর্যায় সূত্রের জনক বলা হয়।

Q. মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণি কাকে বলে?
= মেন্ডেলিভের পর্যায় সূত্র অনুসারে মৌলগুলিকে বিভিন্ন অনুভূমিক ও উল্লম্ব সারিতে সাজিয়ে যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাকে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণি বলে।
মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে মৌলের সংখ্যা ছিল 63 টি।
Q. পর্যায় ও শ্রেণি কাকে বলে?
= পর্যায় সারণির অনুভূমিক সারিগুলিকে পর্যায় বলে। পর্যায় সারণির উল্লম্ব সারিগুলিকে শ্রেণি বলে।
Q. মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে কয়টি পর্যায় ও কয়টি শ্রেণি আছে?
= মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণির সংশোধিত সংস্করণে বা আধুনিক সংস্করণে 7 টি পর্যায় ও 9 টি শ্রেণী বর্তমান।

তবে, মেন্ডেলিভের আদি পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় এবং 8 টি শ্রেণি ছিল। মেন্ডেলিভের সময় নিষ্ক্রিয় মৌলগুলি আবিষ্কৃত না হওয়ায় তাঁর সারণিতে শূন্য শ্রেণি (Group 0) ছিললগ্ন, যেখানে পরবর্তীকালে আবিষ্কৃত নিষ্ক্রিয় মৌলগুলিকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

জেনে রেখো : বর্তমানে মেন্ডেলিফ নামাঙ্কিত যে পর্যায়- সারণি ব্যবহার করা হয় তা উল্লিখিত সারণির সংশোধিত রূপ তথা আধুনিক সংস্করণ।

  • মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে প্রথম পর্যায়ে 2টি মৌল, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ে 8 টি করে মৌল, চতুর্থ পর্যায়ে 18 টি মৌল, পঞ্চম পর্যায়েও 18 টি মৌল, ষষ্ঠ পর্যায়ে ৩২ টি মৌল উপস্থিত এবং সপ্তম পর্যায়টি একটি ভগ্ন পর্যায় তথা অসম্পূর্ণ পর্যায়। এই পর্যায়ে মোট 17টি মৌল আছে। এর মধ্যে প্রথম 6টি (Fr থেকে U) প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বাকি 11টি মৌল কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। যাদের ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল বলা হয়।

প্রথম পর্যায় থেকে ষষ্ঠ পর্যায় পর্যন্ত প্রতি পর্যায়ের শেষে একটি করে নিষ্ক্রিয় মৌল আছে। • দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট মৌল থেকে আরম্ভ করে আটটি মৌলের পরে নবম মৌলে ধর্মের পুনরাবৃত্তি হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট মৌল থেকে আরম্ভ করে 18টি মৌলের পরের মৌলে ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

Q. মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে উপশ্রেণি কী? উদাহরণ দিয়ে বোঝাও।
= মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে উপশ্রেণি : মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে I-VII পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণি 'A' ও 'B' দুটি অংশে বিভক্ত। এদের উপশ্রেণি বলে। প্রতিটি শ্রেণির বামদিকের ও ডানদিকের স্তম্ভকে যথাক্রমে উপশ্রেণি 'A' ও উপশ্রেণি 'B' বলে। একই শ্রেণির A ও B উপশ্রেণির মৌলগুলির মধ্যে যোজ্যতা ছাড়া অন্য ধর্মের মিল নেই। একই উপশ্রেণির মৌলগুলির ধর্মে মিল দেখা যায়。
VIII নং শ্রেণি ও '0' শ্রেণির কোনো উপশ্রেণি নেই। তবে VIII নং শ্রেণিতে প্রতি পর্যায়ে 3টি করে মৌল আছে।
Q. ত্রয়ী মৌল কাকে বলে? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী?
= মেন্ডেলিফের পর্যায়-সারণির চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্যায়ের ক্ষেত্রে শ্রেণি VIII-এর প্রতি ঘরে তিনটি করে মৌল যথাক্রমে (Fe, Co, Ni), (Ru, Rh, Pd) এবং (Os, Ir, Pt) রাখা হয়েছে। এদেরকে ত্রয়ী মৌল বলা হয়। এদের ধর্মগত সাদৃশ্য খুব বেশি ও পারমাণবিক গুরুত্ব খুব কাছাকাছি।
Q. আর্গনের পারমাণবিক গুরুত্ব (39.94) পটাশিয়ামের পারমাণবিক গুরুত্বের (39.1) তুলনায় বেশি হলেও মেন্ডেলিভ তাঁর পর্যায় সারণিতে পটাশিয়ামের আগে আর্গনকে স্থান দিয়েছেন কেন?
= মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণি গঠনের সময় মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্ব অনুযায়ী সাজানোর নীতি গ্রহণ করা হলেও মেন্ডেলিভের মূল উদ্দেশ্য ছিল একই রকম ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলিকে একই শ্রেণিভুক্ত করা। তাই রাসায়নিক ধর্মের সাদৃশ্যের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে আর্গনকে (Ar) পটাশিয়ামের (K) আগে স্থান দেওয়া হয়েছে।
Q. মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণির ত্রুটিগুলি উল্লেখ করো।
=
1. মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর পারমাণবিক ভরবিশিষ্ট মৌলকে নিম্নতর পারমাণবিক ভরবিশিষ্ট মৌলের পূর্বে স্থান দিতে হয়েছে।
2. মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনের অবস্থান বিতর্কিত।
3. পারমাণবিক ভর ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একটি মৌলের সমস্ত আইসোটোপ বা সমস্থানিকগুলিকে মেন্ডেলিভের পর্যায়- সারণিতে একই স্থানে রাখা হয়েছে।
Q. 'পর্যায় সারণি' রচনায় মেন্ডেলিফের অবদান লেখো। 2023
= 'পর্যায় সারণি' রচনায় মেন্ডেলিফের অবদান :
(1) ধর্মভিত্তিক মৌলসমূহের সুশৃঙ্খল শ্রেণিবিভাগ : মেন্ডেলিফই সর্বপ্রথম মৌলসমূহের ধর্মভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ করেন। এই শ্রেণিবিভাগ মৌলসমূহ এবং তাদের যৌগ সম্বন্ধে আলোচনাকে সহজতর করেছে। মৌলসমূহের বিভিন্ন ধর্মের পর্যায়গত এবং শ্রেণিগত পরিবর্তনের ধারা থেকে কোনো মৌলের পর্যায় সারণিতে অবস্থান অনুযায়ী তার সম্ভাব্য ধর্ম-সম্বন্ধে পূর্বাভাস দেওয়া যায়।
(2) অনাবিষ্কৃত মৌলের বিষয়ে ভবিষ্যৎবাণী: মেন্ডেলিফ পর্যায় সারণি প্রস্তুতির সময় অনাবিষ্কৃত কিছু মৌলের জন্য পর্যায় সারণিতে কয়েকটি স্থান ফাঁকা রেখেছিলেন। অনাবিষ্কৃত এই সকল মৌলের ধর্ম সম্বন্ধে - তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। পরবর্তীকালে এই মৌলগুলি আবিষ্কৃত হওয়ার পর আশ্চর্যজনকভাবে তাদের ধর্ম তাঁর ভবিষ্যৎবাণী-র সাথে মিলে যায়। এই ঘটনা বৈজ্ঞানিকদের নতুন মৌল আবিষ্কারে উৎসাহ দান করে। যেমন—স্ক্যান্ডিয়াম (Sc), গ্যালিয়াম (Ga) এবং জার্মেনিয়াম (Ge) মেন্ডেলিফের পর্যায়-সারণি প্রস্তুতির সময় অনাবিষ্কৃত ছিল। মেন্ডেলিফ এদের নাম দিয়েছিলেন একা-বোরন, একা-অ্যালুমিনিয়াম এবং একা- সিলিকন কারণ এরা যথাক্রমে বোরন, অ্যালুমিনিয়াম এবং সিলিকনের ধর্মের অনুরূপ হবে।
Q. মেন্ডেলিফের পর্যায়-সারণি কীভাবে মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম সম্পর্কে ধারণা প্রদান করতে সাহায্য করে?
= মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্ব অনুসারে সাজানো হয়েছে। ফলে, পর্যায়-সারণিতে পর্যায় ও শ্রেণি বরাবর মৌলগুলির বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক পর্যায়গত ধর্ম নির্দিষ্ট নীতি মেনেই পরিবর্তিত হয়। তাই পর্যায় সারণিতে কোনো মৌলের নির্দিষ্ট অবস্থান (পর্যায় ও শ্রেণি সংখ্যা) জানা থাকলে শ্রেণি বরাবর বা পর্যায় বরাবর অন্যান্য মৌলের সঙ্গে তুলনা করে ওই মৌলের বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম যেমন – পরমাণুর আকার, জারণ-বিজারণ, ধাতব ধর্ম, তড়িৎ-ঋণাত্মকতা প্রভৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

জেনে রেখো : মেন্ডেলিভ ধারণা করেছিলেন যে পারমাণবিক ভরই মৌলের মূল ধর্ম। আইসোটোপ আবিষ্কারের পর জানা গেল যে একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণু থাকতে পারে যাদের রাসায়নিক ধর্ম একই, অথচ ভর (পারমাণবিক ভর) বিভিন্ন ।

Q. মোজলের পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কী? পর্যায় সারণির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কী? 2019
= বিজ্ঞানী মোজলে পরমাণুর X-রশ্মি বর্ণালি সংক্রান্ত নানা ধরনের পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত করেন যে,
মৌলের রাসায়নিক ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্কের উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক ভরের উপর নয়। অর্থাৎ পারমাণবিক সংখ্যাই হল মৌলের মূলগত ধর্ম।
এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব : মোজলের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে পর্যায় সারণিতে মৌলগুলিকে পারমানবিক ভরের পরিবর্তে পারমানবিক সংখ্যা অনুসারে সাজানো হয়েছে এবং এর ফলে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণি সংশোধিত হয়েছে।
Q. মেন্ডেলিভের পর্যায় সূত্রের সংশোধিত রূপটি লেখো অথবা আধুনিক পর্যায় সূত্রটি লেখ।
= বিভিন্ন মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মগুলি তাদের পারমাণবিক সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয়।
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণি কাকে বলে ?
= আধুনিক পর্যায়-সূত্র অনুযায়ী, মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণির অনুসরণে মৌলের পরমাণুগুলির ইলেকট্রন-বিন্যাসের ভিত্তিতে নিলস বোর যে পর্যায় সারণি প্রকাশ করেন তার সর্বাধুনিক সংস্করণই দীর্ঘ পর্যায়-সারণি বা বোরের পর্যায়-সারণি নামে পরিচিত।
Q. আধুনিক বা দীর্ঘ পর্যায় সারণিতে কটি শ্রেণি ও কটি পর্যায়ে আছে ?
= 7টি পর্যায় ও 18টি শ্রেণি আছে।

জানার বিষয় :

  • 1984 খ্রিষ্টাব্দে IUPAC (Inter- national Union of Pure and Applied Chemistry) কর্তৃক দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের পর্যায়-সারণি স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে এই সারণি আধুনিক দীর্ঘ পর্যায় সারণি নামে পরিচিত। এই সারণিতে মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণু ক্রমাঙ্ক অনুসারে সাজানো হয়েছে এবং সারণির বর্ণনা মৌলগুলির সর্ববহিঃস্থ কক্ষের ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্রম অনুসারে করা হয়েছে। এইরূপ সজ্জায় প্রতিটি শ্রেণিতে মৌলগুলি ওপর থেকে নীচের দিকে একই রূপ ইলেকট্রনবিন্যাস লাভ করে। ফলে একই শ্রেণির মৌলগুলির রাসায়নিক ধর্ম একই হয়।
  • STP তে কেবলমাত্র তরল উপাদান হল ব্রোমিন (Br) এবং মার্কারি (Hg)। যদিও, সিজিয়াম (Cs), রুবিডিয়াম (Rb), ফ্র্যান্সিয়াম (Fr) এবং গ্যালিয়াম (Ga) মৌলগুলি ঘরের তাপমাত্রায় বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় তরলে পরিণত হয়।

আধুনিক দীর্ঘ পর্যায় সারণির পর্যায়ের বিবরণ :

এই পর্যায়-সারণির 7টি পর্যায় 1, 2, 3, 4, 5, 6 এবং 7 সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। মৌলগুলির পরমাণুর কক্ষপথ সংখ্যাই তাদের পর্যায় সংখ্যা। (মেন্ডেলিভের পর্যায়-সারণির সংশোধিত রূপে প্রতি পর্যায়ে যতগুলি মৌল আছে এই পর্যায়-সারণিতেও ঠিক ততগুলি মৌল আছে)। একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে অবস্থিত মৌলগুলির ইলেকট্রন বিন্যাস বিভিন্ন হওয়ায় একই পর্যায়ে অবস্থিত মৌলগুলির রাসায়নিক ধর্ম বিভিন্ন হয়।

পর্যায় সংখ্যামৌলের সংখ্যাপর্যায়ের নাম
1 (প্রথম)2অতি হ্রস্ব পর্যায়
2 (দ্বিতীয়)8প্রথম হ্রস্ব পর্যায়
3 (তৃতীয়)8দ্বিতীয় হ্রস্ব পর্যায়
4 (চতুর্থ)18প্রথম দীর্ঘ পর্যায়
5 (পঞ্চম)18দ্বিতীয় দীর্ঘ পর্যায়
6 (ষষ্ঠ)32প্রথম অতিদীর্ঘ পর্যায়
7 (সপ্তম)32দ্বিতীয় অতিদীর্ঘ পর্যায়

আধুনিক দীর্ঘ পর্যায় সারণির শ্রেণির বিবরণ :

দীর্ঘ পর্যায়-সারণিতে মৌলগুলিকে 18টি উল্লম্ব শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। শ্রেণিগুলিকে 1 থেকে 18 সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলগুলির সর্ববহিঃস্থ কক্ষে সমান সংখ্যক যোজ্যতা ইলেকট্রন থাকে। ফলে একই শ্রেণির মৌলগুলির যোজ্যতা ও রাসায়নিক ধর্ম একই হয়।

শ্রেণি 1

এরা সবাই ক্ষারধাতু। এদের যোজ্যতা = 1। এই শ্রেণির সবচেয়ে শেষের মৌল ফ্রান্সিয়াম হল তরল তেজস্ক্রিয় মৌল এবং স্বল্পস্থায়ী। ক্ষারধাতু গুলির নাম মনে রাখার কৌশল --
হা --------- লি --------- না --------- কে --------- রুবি --------- সাজিয়ে --------- ফিরেছে
H--------- Li ---------Na --------- K --------- Rb --------- Cs --------- Fr

শ্রেণি 2

এরা সবাই ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু। এদের প্রত্যেকের যোজ্যতা = 2। এই শ্রেণির সর্বশেষ মৌল রেডিয়াম হল তেজস্ক্রিয় মৌল।

মৃত্তিকা ধাতু গুলির নাম মনে রাখার কৌশল --
বেটা --------- মাঙ্গে --------- কার --------- স্কুটার --------- বাপ---------রাজি
Be --------- Mg --------- Ca --------- Sr --------- Ba --------- Ra

শ্রেণী 3-12

এদের সন্ধিগত মৌল বলা হয়। সন্ধিগত মৌলের সংখ্যা হল 30 টি। প্রথম সন্ধিগত মৌলটির নাম হল স্ক্যানডিয়াম (Sc) যার পারমানবিক সংখ্যা হল 21 ।

শ্রেণি 13

এদের যোজ্যতা = 3। এই শ্রেণির সর্বশেষ মৌল থ্যালিয়াম (Tl) হল তেজস্ক্রিয়।

এই মৌলগুলির নাম মনে রাখার কৌশল -
বউ --------- আমার --------- গেল --------- ইন্ডিয়াতে --------- থাকতে
B --------- Al --------- Ga --------- In --------- Tl

শ্রেণি 14

এদের যোজ্যতা = 4। এই মৌলগুলির নাম মনে রাখার কৌশল -
কলা --------- সিলিলে --------- জার্মানির --------- সোনা --------- পাবে
C --------- Si- --------- Ge --------- Sn --------- Pb

শ্রেণি 15

এদের যোজ্যতা = 3। এরা সকলে নিকটোজেন মৌল। এই শ্রেণির সর্বশেষ মৌল হল বিসমাথ (Bi) হল - তেজস্ক্রিয়।

নিকটোজেন মৌলগুলির নাম মনে রাখার কৌশল -
নারকেল --------- পেয়ারা --------- আসে --------- সাহেবের --------- বিমানে
N --------- P --------- As --------- Sb --------- Bi

শ্রেণি 16

এদের যোজ্যতা = 2। এরা সকলে চ্যালকোজেন মৌল। এই শ্রেণির সর্বশেষ মৌল পোলোনিয়াম (Po) হল- তেজস্ক্রিয়। চ্যালকোজেন মৌলগুলির নাম মনে রাখার কৌশল -
ওরা --------- সব --------- সেলেনার --------- টেবিলে --------- পড়ে
O --------- S --------- Se --------- Te --------- Po

শ্রেণি 17

এরা সকলে হ্যালোজেন মৌল। এদের যোজ্যতা = 1। এই শ্রেণির প্রথম মৌল ফ্লুরিন (F) হল সবচেয়ে তীব্র তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল।

এই শ্রেণির মৌলগুলি হল- F, Cl, Br, I, At

এদের মধ্যে ফ্লুরিন ও ক্লোরিন গ্যাসীয়, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন ও অ্যাস্টাটিন কঠিন। এরা প্রত্যেকেই রঙিন।

শ্রেণি 18

এরা সকলে নিষ্ক্রিয় মৌল । এদের যোজ্যতা = 0। এই শ্রেণির সর্বশেষ মৌল হল রেডন (Rn) - যা নিষ্ক্রিয় তেজস্ক্রিয় মৌল।

এই শ্রেণির মৌলগুলি হল- He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn ।

নিষ্ক্রিয় মৌলের অপর নাম গুলি হল - সেতু মৌল, অভিজাত মৌলের, বিরল গ্যাস, নোবল গ্যাস।

Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণিতে শ্রেণি সংখ্যা কত ? 2017 2022

a) 7 b) 8 c) 9 d) 18

Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ে কতগুলি মৌলিক পদার্থ আছে? 2023

a) 8 b) 32 c) 16 d) 18

Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির কোন শ্রেণিতে হ্যালোজেন মৌলগুলি অবস্থিত? 2019

a) শ্রেণি-1 b) শ্রেণি-16 c) শ্রেণি-17 d) শ্রেণি-2

Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির কোন্ শ্রেণিতে গ্যাসীয়, তরল এবং কঠিন তিনটি ভৌত অবস্থার মৌলই বর্তমান ? 2022
Q. ক্ষার ধাতুগুলি দীর্ঘ পর্যায় সারণির কোন্ গ্রুপের অন্তর্গত? 2022
Q. আদর্শ মৌল বা প্রতিনিধি মৌল বলতে কী বোঝায়? একটি আদর্শ মৌলের নাম লেখো।
= আদর্শ মৌল বা প্রতিনিধি মৌল : যে-সমস্ত মৌলের পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষ ছাড়া অন্য সব কক্ষেই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যায় ইলেকট্রন থাকে, তাদের আদর্শ মৌল বা প্রতিনিধি মৌল বলে।
1, 2 এবং 13–17 নং শ্রেণির মৌলগুলি এই ধরনের মৌল। এই মৌলগুলি রাসায়নিকভাবে খুবই সক্রিয় হয়। প্রকৃতিতে এদের প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়。
** একটি আদর্শ মৌলের নাম হল সোডিয়াম (Na)।
Q. সন্ধিগত মৌল বলতে কী বোঝায় ?
= যেসব মৌলের পরমাণুর স্থিতাবস্থায় বা যে-কোনো স্থায়ী জারণ অবস্থায় সর্ববহিঃস্থ কক্ষ ও তার আগের কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে, তাদের সন্ধিগত মৌল বলে।
Q. সন্ধিগত মৌল কাদের বলে? এদের বৈশিষ্ট্য লেখ।
= সন্ধিগত মৌল : পর্যায়সারণির চতুর্থ পর্যায়ে Sc(21) থেকে Zn(30), পঞ্চম পর্যায়ে Y(39) থেকে Cd(48) এবং ষষ্ঠ পর্যায়ে La(57), Hf(72) থেকে Hg(80) পর্যন্ত মৌলগুলিকে ইলেকট্রন বিন্যাসগত বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে সন্ধিগত মৌল বলে। যদিও Zn, Cd ও Hg সন্ধিগত মৌল নয়।

বৈশিষ্ট্য :

(1) এরা একাধিক যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
(2) রঙিন যৌগ উৎপন্ন করে।
(3) স্থায়ী জটিল যৌগ উৎপন্ন করে।
(4) সকলেই ধাতু, উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট, তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী।
(5) বেশিরভাগ সন্ধিগত মৌল অনুঘটকরূপে কাজ করে।

Q. ক্ষার ধাতু কোনগুলি? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ? এদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
= ক্ষার ধাতু : দীর্ঘ পর্যায় সারণির 1 নং শ্রেণিতে বা মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির গ্রুপ-IA তে অবস্থিত লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) ও ফ্রান্সিয়াম (Fr) এই ছয়টি ধাতু হল ক্ষার ধাতু।
নামকরণের কারণ : এই ধাতুগুলি সাধারণ উষ্ণতায় জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তীব্র ক্ষারধর্মী হাইড্রোক্সাইড যৌগ উৎপন্ন করে। এই কারণে এদের ক্ষার ধাতু বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য :
(1) এদের প্রত্যেকের যোজ্যতা কক্ষে 1 টি করে ইলেকট্রন থাকে।
(2) এরা প্রত্যেকেই তীব্র তড়িৎ ধনাত্মক নরম ধাতু এবং উত্তম বিজারক।
(3) এদের প্রত্যেকের যোজ্যতা 1 এবং প্রত্যেকে একক পজিটিভ আয়ন উৎপন্ন করে।
(4) এরা অত্যন্ত সক্রিয় তাই প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না, যৌগ হিসাবে পাওয়া যায়।
(5) এরা প্রত্যেকে হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাইড্রাইড (MH) উৎপন্ন করে। (যেমন NaH, LiH )
Q. ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু কোনগুলি? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ? এদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
= ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু : দীর্ঘ পর্যায়-সারণির 2 নং শ্রেণিতে এবং মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির Gr-IIA-তে অবস্থিত বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেশিয়াম (Mg), ক্যালশিয়াম (Ca), স্ট্রনশিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) - এই ছয়টি ধাতুকে ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু বলা হয়।
নামকরণের কারণ : এদের অক্সাইড হিসাবে প্রচুর পরিমাণে ভূত্বকে পাওয়া যায়। এদের অক্সাইড ক্ষারীয় বলে এদের ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু বলে।
বৈশিষ্ট্য :
(1) এদের রাসায়নিক সক্রিয়তা ক্ষার ধাতু অপেক্ষা কম।
(2) এদের যোজ্যতা 2, অর্থাৎ, এদের যোজন কক্ষে 2টি ইলেকট্রন বর্তমান।
(3) এদের জলীয় দ্রবণ ক্ষারধর্মী।
(4) এরাও বিজারক মৌল ।
Q. মুদ্রা ধাতু কাদের বলে? এরূপ নামকরণের কারণ লেখো। এরা পর্যায় সারণির কোথায় অবস্থিত?
= কপার (Cu), সিলভার (Ag), গোল্ড (Au) – এই তিনটি ধাতুকে মুদ্রা ধাতু বলা হয়।
নামকরণের কারণ : প্রাচীনকালে এই ধাতুগুলি মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহার করা হত, তাই এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
পর্যায় সারণীতে অবস্থান : দীর্ঘ পর্যায় সারণির 11 নম্বর শ্রেণীতে যথাক্রমে 4, 5 ও 6 নং পর্যায়ে অবস্থিত।
Q. নিকটোজেন মৌল কাদের বলা হয়? এরূপ নামকরণের কারণ কী ?
= নিকটোজেন মৌল : দীর্ঘ পর্যায় সারণির 15 নং শ্রেণিতে অবস্থিত নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), আর্সেনিক (As), অ্যান্টিমনি (Sb) ও বিসমাথ (Bi) – এই মৌলগুলিকে নিকটোজেন মৌল বলা হয়।
নামকরণের কারণ : ‘নিকটোজেন' শব্দটির অর্থ হল শ্বাসরোধকারী। এই শ্রেণির প্রথম মৌল নাইট্রোজেন শ্বাসরোধকারী গ্যাস। তাই এই শ্রেণির অন্তর্গত মৌলগুলিকে এরূপ নাম দেওয়া হয়েছে।
Q. চ্যালকোজেন মৌল কাদের বলা হয়? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ?
= চ্যালকোজেন মৌল : দীর্ঘ পর্যায় সারণির 16 নং শ্রেণির অন্তর্গত মৌলগুলি অর্থাৎ, অক্সিজেন (O), সালফার (S), সেলেনিয়াম (Se), টেলুরিয়াম (Te), পোলোনিয়াম (Po) মৌলগুলিকে একত্রে চ্যালকোজেন মৌল বলা হয়।
নামকরণের কারণ : ‘চ্যালকোজেন' কথাটির অর্থ আকরিক গঠনকারী। এই মৌলগুলি বিশেষ করে অক্সিজেন, সালফার বিভিন্ন ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধাতব অক্সাইড বা ধাতব সালফাইড গঠন করে আকরিকের উপাদানরূপে অবস্থান করে। তাই এই শ্রেণির মৌলগুলির এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
Q. হ্যালোজেন মৌল কোন্গুলি ? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী? এদের বৈশিষ্ট্য লেখ।
= দীর্ঘ পর্যায় সারণির 17 নং শ্রেণির ফ্লুরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I) এবং অ্যাস্টাটিন (At) -এই পাঁচটি মৌলকে হ্যালোজেন মৌল বলে।
নামকরণের কারণ : হ্যালোজেন কথার অর্থ হল সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক। সামুদ্রিক লবণের (যেমন—NaCl) উপাদান হিসেবে এদের পাওয়া যায় বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
বৈশিষ্ট্য :
(1) এই মৌলগুলি সক্রিয় বলে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না।
(2) হ্যালোজেন মৌলগুলি তীব্র তড়িৎ-ঋণাত্মক।
(3) এদের যোজ্যতা 1।
(4) এদের প্রত্যেকের জারণ ধর্ম আছে।

জেনে রেখো : ফ্লুরিন— হালকা হলুদ বর্ণের গ্যাস, ক্লোরিন সবুজাভ হলুদ বর্ণের গ্যাস, ব্রোমিন— লালবর্ণের তরল এবং আয়োডিন— উজ্জ্বল কঠিন পদার্থ। অর্থাৎ 17 নং শ্রেণিতে তিনরকম ভৌত অবস্থার মৌলই উপস্থিত। এদের মধ্যে অ্যাস্টাটিন তেজস্ক্রিয়। ফ্লুরিন (F)-কে সুপার হ্যালোজেন বলা হয়।

Q. নোবল্ গ্যাস বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত মৌল কোনগুলি? এদের ‘নিষ্ক্রিয় মৌল’ এবং ‘সেতু মৌল' বলা হয় কেন? এদের বৈশিষ্ট্য লেখ।
= নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert gas) : মেন্ডেলিফের পর্যায়-সারণিতে অবস্থিত শূন্য শ্রেণির বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 18 নং শ্রেণির হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) এই ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌল বলা হয় ।
নিষ্ক্রিয় মৌল বা শূন্যযোজী মৌল বলার কারণ : নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির সর্ববহিস্থ কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ থাকায় এরা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। এজন্য এদের যোজ্যতা শূন্য ধরা হয়। তাই মৌলগুলিকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা শূন্যযোজী মৌল বলে।
সেতু মৌল বলার কারণ : এই মৌলগুলি 17 নং শ্রেণির তীব্র তড়িৎ-ঋণাত্মক হ্যালোজেন মৌল ও পরবর্তী পর্যায়ের 1নং শ্রেণির তীব্র তড়িৎ-ধনাত্মক ক্ষার ধাতুগুলির মাঝে সেতুরূপে সংযোগ স্থাপন করে বলে এদেরকে সেতু মৌল বলা হয় ।
বৈশিষ্ট্য :
(1) সাধারণ অবস্থায় এই মৌলগুলি সকলেই গ্যাসীয়।
(2) এদের যোজ্যতা শূন্য ধরা হয়।
(3) এদের পরমাণুর বাইরের কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে (He-এর বাইরের কক্ষে 2টি এবং অন্যান্যদের বাইরের কক্ষে ৪টি ইলেকট্রন থাকে)। এরা রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়।
(4) এরা এক পরমাণুক।
Q. বিরল মৃত্তিকা মৌল কাদের বলে? এরূপ নামকরণের কারণ কী? কয়েকটি বিরল মৃত্তিকা মৌলের উদাহরণ দাও। অথবা, ল্যান্থানাইড মৌল কাদের বলে?
= বিরল মৃত্তিকা মৌল বা ল্যান্থানাইড মৌল : পর্যায় সারণির ষষ্ঠ পর্যায়ে ল্যান্থানাম (La)-এর পরবর্তী 14টি মৌলের অর্থাৎ, সিরিয়াম (Ce) থেকে লুটেশিয়াম (Lu) পর্যন্ত মৌলগুলির ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। এই 14টি মৌলকে মূল পর্যায়-সারণির নীচে একটি আলাদা অনুভূমিক সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এদের বলা হয় ল্যান্থানাইড মৌল বা বিরল মৃত্তিকা মৌল।
নামকরণের কারণ : পূর্বে ধারণা ছিল যে, এই সমস্ত মৌলগুলি প্রকৃতিতে খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায়, তাই এদেরকে বিরল মৃত্তিকা মৌল বলে।
Q. অ্যাক্টিনাইড মৌল কাদের বলে? এরূপ নামকরণের কারণ কী?
= অ্যাক্টিনাইড মৌল : আধুনিক পর্যায়-সারণির সপ্তম পর্যায়ের অ্যাকটিনিয়াম (Ac)-এর পরে থোরিয়াম (Th) থেকে লরেন্সিয়াম (Lr) পর্যন্ত 14টি মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বর্তমান। এদের বলা হয় অ্যাক্টিনাইড মৌল।
এদের পর্যায় সারণির নীচে পৃথক একটি অনুভূমিক সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
নামকরণের কারণ : এই মৌলগুলি অ্যাক্টিনিয়ামের পরে অবস্থান করে, তাই এদের অ্যাক্টিনাইড মৌল বলা হয়।
Q. ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল বলতে কী বোঝায় ? এদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
= ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল : পর্যায়সারণির সপ্তম পর্যায়ে অবস্থিত ইউরেনিয়াম-পরবর্তী মৌল নেপচুনিয়াম (Np), থেকে লরেনসিয়াম (Lr) পর্যন্ত 11টি মৌলকে ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল বলে।
উদাহরণ:
বৈশিষ্ট্য :
(1) এই মৌলগুলিকে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাকটরে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়।
(2) এই মৌলগুলির মধ্যে কেবলমাত্র নেপচুনিয়াম (Np) এবং প্লুটোনিয়াম (Pu) মৌল দুটিকেই প্রকৃতিতে খুব অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। তবে এদের কৃত্রিম উপায়েও তৈরি করা যায়।
(3) ইউরেনিয়ামোত্তর মৌলগুলি তেজস্ক্রিয় প্রকৃতির হয়।
Q. পর্যায় সারণির শেষ প্রাকৃতিক মৌলের নাম লেখ।
= ইউরেনিয়াম।
Q. পর্যায় সারণিতে প্রাকৃতিক মৌলের সংখ্যা কয়টি ?
= 92 টি।
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির শ্রেণি-2-এর মৌলগুলিকে ক্ষার মৃত্তিকা ধাতু বলা হয় কেন? 2022
Q. একটি সন্ধিগত মৌল ও একটি ইউরেনিয়ামোত্তর মৌলের উদাহরণ দাও। 2022
Q. বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো। 2017
1. একটি সন্ধিগত মৌল a. প্লুটোনিয়াম
2. একটি ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল b. নিকেল
Q. বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো। 2018
1. একটি ক্ষার ধাতু a. F
2. সর্বাধিক তড়িৎ-ঋণাত্মক মৌল b. K
Q. বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো। 2020
1. একটি ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল a. ক্রিপটন
2. একটি অভিজাত মৌল b. নেপচুনিয়াম
Q. বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো। 2022
1. সর্বাধিক তড়িৎ-ঋণাত্মক মৌল a. ক্রিপটন
2. একটি অভিজাত মৌল b. ফ্লুরিন
Q. বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো। 2023
1. একটি ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু a. Fe
2. ধাতু সংকর ইনভার এ যে ধাতুটি শতকরা সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে b. Zn
3. একটি ক্ষার ধাতু c. Ca
4. আয়রনের মরিচা রোধে যে ধাতুটির প্রলেপ দেওয়া হয় d. K
Q. হাইড্রোজেনকে 'দুষ্ট মৌল' বলা হয় কেন ?
= ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্ব অনুসারে মৌলগুলিকে পর্যায়-সারণিতে সাজাতে গিয়ে মেন্ডেলিফ লক্ষ্য করেন যে, IA শ্রেণির ক্ষার ধাতুগুলির সঙ্গে হাইড্রোজেনের ধর্মের যেমন বেশ কিছু সাদৃশ্য আছে, তেমনই VIIB শ্রেণির হ্যালোজেন মৌলগুলির ধর্মের সঙ্গেও এর কিছু সাদৃশ্য আছে। তাই হাইড্রোজেনকে IA ও VIIB -উভয় শ্রেণিতেই স্থান দেওয়া যায়। পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মেন্ডেলিফ বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হন বলে হাইড্রোজেনকে তিনি 'দুষ্ট মৌল' নামে অভিহিত করেন।
Q. পর্যায়-সারণিতে হাইড্রোজেনকে গ্রুপ 1-এর ক্ষার ধাতুগুলি ও গ্রুপ 17-এর হ্যালোজেন মৌলগুলির সঙ্গে একত্রে রাখার সপক্ষে এবং বিপক্ষে যুক্তি দাও অর্থাৎ সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লেখ।
= IA শ্রেণির বা গ্রুপ 1 এর ক্ষার ধাতুর সঙ্গে হাইড্রোজেনের,
সাদৃশ্য :
(1) ক্ষার ধাতুগুলির মতো হাইড্রোজেনের যোজ্যতা 1 ।
(2) হাইড্রোজেন ক্ষার ধাতুগুলির মতো তড়িৎ-ধনাত্মক মৌল।
(3) ক্ষার ধাতুর মতো হাইড্রোজেন অধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে এবং দ্রবণে H+ আয়ন উৎপন্ন করে। অর্থাৎ, ক্ষার ধাতুগুলির NaCl, KCl, NaBr, KI প্রভৃতি যৌগের ন্যায় হাইড্রোজেনেরও HCl, HBr, HI প্রভৃতি যৌগ আছে।
(4) ক্ষার ধাতুর মতো হাইড্রোজেন সুস্থিত অক্সাইড (H2O) গঠন করে।
(5) ক্ষার ধাতুর মতো হাইড্রোজেন বিজারক।
বৈসাদৃশ্য:
(1) ক্ষার ধাতুগুলি কঠিন কিন্তু হাইড্রোজেন গ্যাসীয় পদার্থ।
(2) ক্ষার ধাতুগুলির পারমাণবিকতা 1 অর্থাৎ, এরা এক-পরমাণুক। হাইড্রোজেনের পারমাণবিকতা 2 অর্থাৎ, এটি দ্বি-পরমাণুক।
(3) ক্ষার ধাতুগুলির অক্সাইড ক্ষারীয় প্রকৃতির, কিন্তু হাইড্রোজেনের অক্সাইড H2O প্রশম।
VIIB শ্রেণির বা গ্রুপ 17 এর হ্যালোজেন মৌলগুলির সঙ্গে হাইড্রোজেনের,
সাদৃশ্য :
(1) হ্যালোজেনগুলির মতো হাইড্রোজেনের অণু দ্বিপরমাণুক।
(2) ফ্লোরিন এবং ক্লোরিনের মতো হাইড্রোজেনও গ্যাস এবং অধাতু।
(3) হ্যালোজেন মৌলগুলি ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে হ্যালাইড যৌগ গঠন করে। যেমন - NaCl, KCl, NaBr । অনুরূপে, হাইড্রোজেনও বেশ কয়েকটি ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রাইড যৌগ গঠন করে, যেমন- NaH, CaH2 ।
বৈসাদৃশ্য:
(1) হ্যালোজেন মৌলগুলি তীব্র জারক কিন্তু হাইড্রোজেন বিজারক।
(2) হ্যালোজেন মৌলগুলি তীব্র তড়িৎ-ঋণাত্মক, কিন্তু হাইড্রোজেন তড়িৎ-ধনাত্মক মৌল।
(3) হাইড্রোজেনের অক্সাইড (H2O) প্রশম প্রকৃতির, কিন্তু হ্যালোজেন মৌলদের অক্সাইড আম্লিক প্রকৃতির।
(4) হ্যালোজেন মৌলগুলির সর্ববহিঃস্থ কক্ষে 7টি ইলেকট্রন উপস্থিত, কিন্তু হাইড্রোজেনের একটিমাত্র কক্ষপথে 1টি ইলেকট্রন উপস্থিত।
Q. হাইড্রোজেনের ধর্মের সঙ্গে গ্রুপ-1 মৌলগুলির একটি ধর্মের এবং গ্রুপ-17 মৌলগুলির দুটি ধর্মের সাদৃশ্য উল্লেখ করো। 2018
Q. হাইড্রোজেনের ধর্মের সঙ্গে গ্রুপ-1 মৌলগুলির একটি ধর্মের ও গ্রুপ-17 মৌলগুলির দুটি ধর্মের বৈসাদৃশ্যের উল্লেখ করো। 2020
Q. মৌলের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা বলতে কী বোঝায়? মৌলের পর্যায়গত ধর্ম বলতে কী বোঝায়? 2017
= পর্যাবৃত্ততা : আধুনিক পর্যায়-সূত্র অনুসারে মৌলগুলিকে তাদের ক্রমবর্ধমান পরমাণু-ক্রমাঙ্ক অনুযায়ী সাজালে দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার ব্যবধানে মৌলগুলির ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। এই ঘটনাকে মৌলের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা বলা হয় ।
পর্যায়গত ধর্ম : মৌলের যেসব ধর্ম পরমাণু-ক্রমাঙ্কের সঙ্গে নিয়মিতভাবে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয়, সেই সব ধর্মকে পর্যায়গত ধর্ম বলে। উদাহরণ: পারমাণবিক ব্যাসার্ধ, আয়োনাইজেশন শক্তি, তড়িৎ-ঋণাত্মকতা, জারণ ও বিজারণ ধর্ম ইত্যাদি।
Q. পর্যায়গত ধর্ম নয় এরূপ একটি ধর্মের উদাহরণ দাও ।
= তেজস্ক্রিয়তা, চৌম্বক ধর্ম, বহুরূপতা, বর্ণ, গন্ধ, দ্রাব্যতা, পারমাণবিক গুরুত্ব ইত্যাদি।
Q. নীচের কোন্ ধর্মটি মৌলদের পর্যায়গত ধর্ম নয় ? 2020
a) ঘনত্ব b) গলনাঙ্ক c) স্ফুটনাঙ্ক d) তেজস্ক্রিয়তা
Q. পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বলতে কী বোঝায় ? 2023 পর্যায় ও শ্রেণি বরাবর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কীভাবে পরিবর্তিত হয় ?
= পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বলতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে সর্ববহিঃস্থ ইলেকট্রন-কক্ষের সম্ভাব্য দূরত্বকে বোঝায়।
পর্যায় বরাবর পরিবর্তন : কোনো পর্যায়ের বামদিক থেকে যত ডানদিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বা আকার ততই হ্রাস পেতে থাকে (ব্যতিক্রম – নিষ্ক্রিয় গ্যাস)।

কারণ: পর্যায় বরাবর বাঁদিক থেকে ডানদিকে গেলে পরমাণু ক্রমাঙ্ক বাড়ার সাথে সাথে নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা ও বাইরের কক্ষে ইলেকট্রন সংখ্যা বাড়ে কিন্তু ইলেকট্রন কক্ষের সংখ্যা না বাড়ায় পরমাণুর আকার নিউক্লিয়াসের বর্ধিত ধনাত্মক আধানের আকর্ষণের ফলে কমে যায়।

শ্রেণি বরাবর পরিবর্তন : পর্যায়-সারণিতে কোনো শ্রেণির উপর থেকে যত নীচের দিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বা আকার ক্রমশ বাড়তে থাকে।

কারণ: পর্যায়সারণির যে কোনো একটি শ্রেণির মৌলগুলির ক্ষেত্রে একটি মৌল থেকে পরবর্তী উচ্চতর পারমাণবিক সংখ্যার মৌলে নিউক্লিয়াসের পজিটিভ আধান বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে একটি করে নূতন ইলেকট্রন কক্ষের সৃষ্টি হয় এবং অন্তর্বর্তী ইলেকট্রন কক্ষসমূহের আবরণী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই দুটি কারণের সম্মিলিত প্রভাবে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়।

জেনে রাখো : কোনো পরীক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে পারমাণবিক ব্যাসার্ধের পরিমাপ করা যায় না, বরং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল থেকে পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান নির্ণয় করা হয়।

EQ. পারমাণবিক ব্যাসার্ধ সরাসরি পরিমাপ করা যায় না কেন?
= পারমাণবিক ব্যাসার্ধ সরাসরি পরিমাপ করা যায় না। কারণ-
(1) কোনো পরমাণুর সুনির্দিষ্ট বহিঃস্থ সীমা রেখা নেই।
(2) মৌলের পরমাণুগুলিকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া সম্ভব নয়।
(3) পরমাণুর আকার বা ব্যাসার্ধ খুবই কম (1.2 * 10^-10 m এর কাছাকাছি)।
তাই মৌলের সমযোজী এক বন্ধন সৃষ্টিকারী দুটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসদ্বয়ের মধ্যবর্তী পরীক্ষালব্ধ (বন্ধন দৈর্ঘ্য) দূরত্বের অর্ধেক দূরত্ব দ্বারা ওই মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ পরিমাপ করা হয়।
চিত্রে r হল Cl পরমাণুর ব্যাসার্ধ।
Q. পর্যায় সারণির ক্ষুদ্রতম মৌল কোনটি ?
= হাইড্রোজেন।
Q. নীচের কোনটির পারমাণবিক ব্যাসার্ধ সর্বাধিক? 2017
a) K b) H c) Li d) Na
b)
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির গ্রুপ-1-এর অন্তর্গত Na(11), K(19), Li(3), Rb(37)-কে পরমাণু ব্যাসার্ধের নিম্নক্রম অনুযায়ী সাজাও। 2020
= পরমাণু ব্যাসার্ধের নিম্নক্রম- Rb > K > Na > Li
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির শ্রেণি-16-এর প্রথম তিনটি মৌল হল O, S ও Se । এদের পারমাণবিক ব্যাসার্ধের নিম্নক্রমে সাজাও। 2022
= পারমাণবিক ব্যাসার্ধের নিম্নক্রম : Se > S > O
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির গ্রুপ 14 এর প্রথম তিনটি মৌলিক পদার্থ C, Si এবং Ge কে তাদের পারমাণবিক ব্যাসার্ধের ঊর্ধ্বক্রমে সাজাও। 2023
= C < Si < Ge
Q. আয়োনাইজেশন শক্তি বা আয়নন বিভব বলতে কী বোঝায় ? 2018 পর্যায় ও শ্রেণি বরাবর এটি কীভাবে পরিবর্তিত হয় ?
= আয়োনাইজেশন শক্তি : সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে থাকাকালীন কোনো মৌলের একটি গ্যাসীয় প্রশম বিচ্ছিন্ন পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষের সবচেয়ে শিথিলভাবে আবদ্ধ ইলেকট্রনকে অপসারিত করে পরমাণুটিকে গতিশক্তিহীন এক একক ধনাত্মক আধানযুক্ত আয়নে পরিণত করতে যে ন্যূনতম শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে ওই মৌলের আয়োনাইজেশন শক্তি বা আয়নন বিভব বলে।
M (বিচ্ছিন্ন, গ্যাসীয় প্রশম পরমাণু) + I1 (প্রথম আয়নন শক্তি) -> M+ (গ্যাসীয় ক্যাটায়ন) + e (অপসারিত ইলেকট্রন)

জেনে রেখো : পরীক্ষায় যদি প্রথম আয়নন বিভব কাকে বলে জানতে চায় তাহলেও এই সংজ্ঞাই লিখবে।

পর্যায় বরাবর পরিবর্তন : একটি পর্যায়ের যত বামদিক থেকে ডানদিকে যাওয়া যায় আয়োনাইজেশন শক্তি তত বাড়ে অর্থাৎ ক্যাটায়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতা কমে।

কারণ : নির্দিষ্ট পর্যায়ের ডান দিকে গেলে পরমাণুটির ব্যাসার্ধ কমে। তাই নিউক্লিয়াস ও বহিস্তম কক্ষটির ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ বল বৃদ্ধি পায়। ফলে বেশি শক্তি প্রয়োগ করে ইলেকট্রনকে অপসারিত করতে হয়।

পর্যায় বরাবর পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম : দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলগুলির ক্ষেত্রে,
আয়নন শক্তির ক্রম Li < B < Be < C < O < N < F < Ne

শ্রেণি বরাবর পরিবর্তন : নির্দিষ্ট শ্রেণিতে যত উপর থেকে নীচের দিকে যাওয়া যায় আয়োনাইজেশন শক্তি তত কমতে থাকে অর্থাৎ ক্যাটায়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

কারণ : নির্দিষ্ট শ্রেণির উপর থেকে নীচের দিকে গেলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়ে। তখন নিউক্লিয়াস থেকে যোজ্যতা কক্ষের বা বহিঃস্থ কক্ষের দূরত্ব বাড়ে। ফলে নিউক্লিয়াস ও বহিঃস্থতম কক্ষটির ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ বল হ্রাস পায়। তাই সহজেই কম শক্তি প্রয়োগ করে ইলেকট্রনকে অপসারিত করা যায়।

Q. কোন্ মৌলের আয়োনাইজেশন শক্তি সর্বাধিক এবং কোনটির সর্বনিম্ন ?
= হিলিয়ামের (He) আয়োনাইজেশন শক্তি সর্বাধিক এবং সিজিয়ামের (Cs) আয়োনাইজেশন শক্তি সর্বনিম্ন।
Q. আয়োনাইজেশন শক্তির একক লেখো।
= SI-তে কিলোজুল / মোল (kJ/mol) ও CGS এ কিলোক্যালোরি/ মোল (kcal/mol)।
এছাড়াও আরও একটি একক হয়- ইলেকট্রন ভোল্ট / পরমাণু (eV/atom)।
Q. Li, Rb, K ও Na-কে আয়োনাইজেশন শক্তির ঊর্ধ্বক্রমে সাজাও। 2017
= Rb < K < Na < Li
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির শ্রেণি-16-এর প্রথম তিনটি মৌল হল O, S ও Se । এদের আয়োনাইজেশন শক্তির নিম্নক্রমে সাজাও। 2022
= আয়োনাইজেশন শক্তির নিম্নক্রম : O > S > Se
Q. মৌলের তড়িৎ-ঋণাত্মকতা (Electronegativity) বলতে কী বোঝায়? 2017 পর্যায় সারণির পর্যায় বরাবর এবং শ্রেণি বরাবর তড়িৎ-ঋণাত্মকতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
= তড়িৎ-ঋণাত্মকতা : কোনো যৌগের অণুতে সমযোজী বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ থাকা অবস্থায় কোনো মৌলের একটি পরমাণুর বন্ধন সৃষ্টিকারী ইলেকট্রন-জোড়কে নিজের দিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা বা প্রবণতাকে ওই মৌলের তড়িৎ-ঋণাত্মকতা বলে。
তড়িৎ ঋণাত্মকতার পর্যায় বরাবর পরিবর্তন : একটি পর্যায়ের বামদিক থেকে ডানদিকে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তড়িৎ ঋণাত্মকতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

কারণ : পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি পায় এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায়। এর ফলে বন্ধন ইলেকট্রন জোড়ের প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতাও বৃদ্ধি পায়।

তড়িৎ ঋণাত্মকতার শ্রেণি বরাবর পরিবর্তন : একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির উপর থেকে নীচের দিকে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা ক্রমশ হ্রাস পায়।

কারণ : একই শ্রেণিতে পর্যায় সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে নূতন ইলেকট্রনীয় কক্ষের সংযুক্তি ঘটে। ফলে বন্ধন ইলেকট্রন জোড় থেকে নিউক্লিয়াসের দূরত্ব বৃদ্ধি পায় এবং বন্ধন ইলেকট্রন জোড়কে আকর্ষণের প্রবণতা তথা তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়।

জেনে রাখো : তড়িৎ-ঋণাত্মকতার কোনো একক নেই। এর মান পাউলিং স্কেল, মুলিকেন স্কেল ইত্যাদি দ্বারা পরিমাপ করা হয়।

Q. কোন্ মৌলের তড়িৎ-ঋণাত্মকতা সর্বাধিক এবং কোন্ মৌলের তড়িৎ-ঋণাত্মকতা সর্বনিম্ন ?
= ফ্লুরিন (F)-এর তড়িৎ-ঋণাত্মকতার মান সর্বাধিক এবং সিজিয়াম (Cs)-এর তড়িৎ-ঋণাত্মকতার মান সর্বনিম্ন।
Q. উপর থেকে নীচের দিকে দীর্ঘ পর্যায় সারণির গ্রুপ-1 মৌলগুলির তড়িৎ-ঋণাত্মকতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 2017
= দীর্ঘ পর্যায় সারণির গ্রুপ-1 মৌলগুলির তড়িৎ-ঋণাত্মকতা উপর থেকে নীচের দিকে ক্রমাগত হ্রাস পায়।
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির গ্রুপ-16-এর অন্তর্গত S (16), O(8), Te(52), Se(34)-কে তড়িৎ-ঋণাত্মকতার ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী সাজাও। 2020 2022
= তড়িৎ-ঋণাত্মকতার ঊর্ধ্বক্রম- Te < Se < S < O
Q. F, Cl, Br ও I-কে ক্রমহ্রাসমান তড়িৎ-ঋণাত্মকতা অনুসারে সাজাও। (মাধ্যমিক 2022 )
= তড়িৎ-ঋণাত্মকতার হ্রাসমান ক্রম : F > Cl > Br > I
Q. জারণ ও বিজারণ ধর্ম বলতে কী বোঝায় ? পর্যায় সারণিতে পর্যায় ও শ্রেণি বরাবর মৌলের জারণ ও বিজারণ ধর্মের পরিবর্তন কীভাবে হয় ?
= জারণ ধর্ম : কোনো মৌলের ইলেকট্রন গ্রহণ করার ক্ষমতাকে জারণ ধর্ম বলে。
যে মৌল বা আয়নের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা বেশি, তার জারণ ধর্মও বেশি。
বিজারণ ধর্ম : কোন মৌলের ইলেকট্রন বর্জনের ক্ষমতাকে তার বিজারণ ধর্ম বলে。
ইলেকট্রন বর্জনের প্রবণতা যত বেশি, সেই মৌল বা আয়নের বিজারণ ধর্মও তত বেশি।

পর্যায় বরাবর মৌলের জারণ ও বিজারণ ধর্মের পরিবর্তন : পর্যায়-সারণিতে পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে যত ডানদিকে যাওয়া যায় মৌলগুলির জারণ ধর্ম ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং বিজারণ ধর্ম ক্রমশ কমতে থাকে।

ব্যাখ্যা: কোনো মৌলের ইলেকট্রন গ্রহণ করার ক্ষমতা তার- (a) পারমাণবিক আকার বা ব্যাসার্ধ, (b) আয়োনাইজেশন শক্তি, (c) ইলেকট্রন আসক্তি এবং, (d) তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। কোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানদিকে অগ্রসর হলে উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি বৃদ্ধি পায় বলেই একটি পর্যায়ের বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে মৌলগুলির জারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বিজারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

শ্রেণি বরাবর মৌলের জারণ ও বিজারণ ধর্মের পরিবর্তন : শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচের দিকে নামলে মৌলগুলির জারণ ধর্ম ক্রমশ কমতে থাকে এবং বিজারণ ধর্ম ক্রমশ বাড়তে থাকে।

ব্যাখ্যা: কোনো একটি শ্রেণিতে ওপর থেকে নীচের নামার সময় উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলির মান কমে যায় বলেই কোনো শ্রেণির ওপর থেকে নীচের দিকে নামলে মৌলগুলির জারণ ক্ষমতা ক্রমশ কমে যায় অর্থাৎ বিজারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির গ্রুপ-2-এর অন্তর্গত Ca(20), Be(4), Sr(38), Mg(12)-কে বিজারণ ক্ষমতার নিম্নক্রম অনুযায়ী সাজাও। 2020
= বিজারণ ক্ষমতার নিম্নক্রম- Sr > Ca > Mg > Be
Q. পর্যায় ও শ্রেণি বরাবর মৌলের ধাতব ও অধাতব ধর্ম কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
= পর্যায় বরাবর পরিবর্তন : পর্যায় সারণিতে কোনো পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে ধাতব ধর্ম ক্রমশ হ্রাস পায় এবং অধাতব ধর্ম ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
শ্রেণি বরাবর পরিবর্তন : পর্যায়-সারণিতে কোনো শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচে নামলে ধাতব ধর্ম ক্রমশ বাড়ে ও অধাতব ধর্ম ক্রমশ কমে।
Q. দীর্ঘ পর্যায় সারণির তৃতীয় পর্যায়ের শেষ মৌলটির নাম ও সংকেত লেখো। মৌলটির যোজ্যতা কত ?
= আর্গন (Ar)। মৌলটির যোজ্যতা শূন্য।
Q. হ্যালোজেন মৌল গুলিকে নিম্নলিখিত ধর্মগুলির বিচারে ঊর্ধ্বক্রমে সাজাও:
a. পরমাণুর আকার
b. আয়নায়ন শক্তি
c. জারণ ক্ষমতা 2019
d. তড়িৎ ঋণাত্মকতা
= হ্যালোজেন মৌলগুলির,
a) পারমাণবিক আকারের ঊর্ধ্বক্রম - F < Cl < Br < I
b) আয়নায়ন শক্তির ঊর্ধ্বক্রম - I < Br < Cl < F
c) জারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বক্রম - I < Br < Cl < F
d) তড়িৎ ঋণাত্মকতার ঊর্ধ্বক্রম - I < Br < Cl < F
Q. A,B,C মৌল গুলোর পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 3,11,19
a) মৌল তিনটি পর্যায় সারণির কোন শ্রেণীতে অবস্থিত?
b) কোন মৌলের পরমাণুর আকার সবচেয়ে বেশি?
c) এদের মধ্যে কোনটির ধাতব গুণ সবচেয়ে বেশি ?
d) B এর সঙ্গে ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় সমযোজী না তড়িৎযোজী যৌগ উৎপন্ন হয়?
= A মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,1)
B মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,8,1)
C মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,8,8,1)
স্পষ্টতই,
a) মৌল তিনটি পর্যায় সারণির 1 নং শ্রেণীতে অবস্থিত।
b) C মৌলটির পরমাণুর আকার সবচেয়ে বেশি।
c) C মৌলটির ধাতব গুণ সবচেয়ে বেশি।
d) B এর সঙ্গে ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় তড়িৎযোজী যৌগ উৎপন্ন হয়।
Q. একটি মৌলের পরমাণু ক্রমাঙ্ক 17। আধুনিক পর্যায় সারণীতে এর অবস্থান উল্লেখ করো। মৌলটির প্রকৃতি (ধাতু/অধাতু) কিরূপ?
= মৌলটির ইলেকট্রন বিন্যাস হবে = (2,8,7)
মৌলটির পর্যায় সংখ্যা হল 3 এবং শ্রেণি নং হল (10+7) = 17।
Q. A, B ও C মৌলগুলির পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 6, 8 ও 10। C হল একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসীয় মৌল。
a) কোন মৌলটির অপরাতড়িৎধর্মীতা সবচেয়ে বেশি ?
b) কোন মৌলটির পরমাণুর আকার সবচেয়ে কম ?
c) B মৌলটির পর্যায় সারণিতে অবস্থান উল্লেখ কর।
= A মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,4)
B মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,6)
C মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,8)
a) A, B এবং C তিনটি মৌলই দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত। C মৌলটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌল। পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে যত ডানদিকে যাওয়া যায় অপরা তড়িৎধর্মিতা বা তড়িৎ-ঋণাত্মকতা তত বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে B-এর পরমাণু-ক্রমাঙ্ক A-এর পরমাণু-ক্রমাঙ্ক অপেক্ষা বেশি। সুতরাং, B-এর তড়িৎ-ঋণাত্মকতা সবচেয়ে বেশি।
b) পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে যত ডানদিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার তত কমতে থাকে। তাই B মৌলটির পরমাণুর আকার সবচেয়ে কম।
c) দীর্ঘ পর্যায় সারণিতে B মৌলটি 2 নং পর্যায়ে এবং (10+6) = 16 নং শ্রেণীতে অবস্থিত। মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে B মৌলটি 2 নং পর্যায়ে এবং VIB নং শ্রেণীতে অবস্থিত।
Q. A ও B দুটি মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 7 ও 20। মেণ্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে A ও B-এর অবস্থান নির্দেশ করো। T
= A মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,5)
B মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস = (2,8,8,2)
A মৌলটি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে 2 নং পর্যায়ে এবং VB নং শ্রেণীতে অবস্থিত।
B মৌলটি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে 4 নং পর্যায়ে এবং IIA নং শ্রেণীতে অবস্থিত।
Q. Cl (17), Na (11), Mg (12), Ca (20), S (16), F (9) – এদের মধ্যে
1) কোন ধাতব মৌলগুলি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ে অবস্থিত?
2) কোন্ অধাতব মৌলগুলি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির তৃতীয় পর্যায়ে অবস্থিত?
= মৌলগুলির ইলেকট্রন বিন্যাস –
Cl (2,8,7), Na (2,8,1), Mg (2,8,2), Ca (2,8,8,2), S (2,8,6), F (2,7)।
1) উপরের ধাতব মৌলগুলির মধ্যে কোনটিই মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ে অবস্থিত নয়।
2) Cl, S অধাতব মৌল 2টি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির তৃতীয় পর্যায়ে অবস্থিত।
Q. X, Y, Z তিনটি মৌলের পরমাণু ক্রমাঙ্ক যথাক্রমে 6, 8 ও 10। (i) কোন মৌলটি নিষ্ক্রিয় ? (ii) কোনটি সবচেয়ে বেশি অপরাতড়িৎধর্মী মৌল? (iii) কোনটির বিজারণ ধর্ম সবচেয়ে বেশি? T
X মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 4,।
Y মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 6।
Z মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8।
(i) Z মৌলের পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষে ৪টি ইলেকট্রন বর্তমান। সুতরাং, Z মৌলটি নিষ্ক্রিয়।
(ii) X, Y ও Z তিনটি মৌলই দ্বিতীয় পর্যায়ে অবস্থিত। Y মৌলটি X মৌলের থেকে পর্যায়ে ডানদিকে অবস্থিত। Y মৌলের সর্ববহিস্থ কক্ষে 6টি ইলেকট্রন উপস্থিত। সুতরাং, Y মৌলটি সবচেয়ে বেশি অপরাতড়িৎধর্মী।
(iii) X মৌলটি দ্বিতীয় পর্যায়ে Y ও Z মৌল অপেক্ষা অধিকতর বামদিকে অবস্থিত। সুতরাং, X মৌলটির বিজারণ ধর্ম সবচেয়ে বেশি।
Q. A, B এবং C মৌলগুলির পারমাণবিক সংখ্যা হলো যথাক্রমে 3, 11, এবং 19।
(1) মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে মৌল তিনটির অবস্থান কোন্ শ্রেণিতে?
(ii) এদের মধ্যে কোনটির ধাতব গুণ সবচেয়ে বেশি?
(iii) B-এর সঙ্গে ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় তড়িৎযোজী না সমযোজী যৌগ উৎপন্ন হবে? T
3A মৌলের ইলেকট্রন-বিন্যাস : K(2) L(1)।
11B-এর ইলেকট্রন-বিন্যাস : K(2) L(8) M(1)।
19C-এর ইলেকট্রন-বিন্যাস : K(2) L(8) M(8) N(1)।
(i) A, B ও C এই তিনটি মৌলেরই সর্ববহিস্থ কক্ষে 1টি করে ইলেকট্রন আছে। তাই মেন্ডেলিফের পর্যায়-সারণিতে মৌল তিনটির অবস্থান IA শ্রেণিতে।
(ii) A, B ও C-এর মধ্যে C মৌলটির ধাতবগুণ সবথেকে বেশি। কারণ – পর্যায়-সারণিতে একই শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলগুলির ক্ষেত্রে উপর থেকে যত নীচে যাওয়া যায় মৌলের ধাতব ধর্ম তত বৃদ্ধি পায়।
=
(iii) B-এর সঙ্গে ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় তড়িৎযোজী যৌগ উৎপন্ন হবে।
Q. A, B ও C তিনটি মৌলের পরমাণু ক্রমাঙ্ক যথাক্রমে (Z-1), Z এবং (Z+1)। এদের মধ্যে B হল দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
(i) পর্যায় সারণিতে A এবং C-এর অবস্থান নির্ণয় করো।
(ii) B ছাড়া এদের মধ্যে কোনটি ধাতু এবং কোনটি অধাতু?
(iii) এদের যোজ্যতা কত? T
(i) A, B এবং C-এর মধ্যে B মৌলটি দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস যার পরমাণু-ক্রমাঙ্ক Z। অর্থাৎ, B মৌলটির অবস্থান শূন্য শ্রেণি (মেন্ডেলিফ প্রথা অনুযায়ী) বা 18 নং শ্রেণিতে।
A মৌলটির পরমাণু-ক্রমাঙ্ক B-এর তুলনায় 1 একক কম অর্থাৎ, A মৌলটি দ্বিতীয় পর্যায়ের VIIB গ্রুপে (মেন্ডেলিফ প্রথা অনুযায়ী) বা 17 নং শ্রেণিতে অবস্থান করে। আবার, C মৌলটির পরমাণু-ক্রমাঙ্ক B-এর তুলনায় 1 বেশি অর্থাৎ, C মৌলটি তৃতীয় পর্যায়ে IA শ্রেণি বা 1 নং শ্রেণিতে অবস্থান করে।
(ii) A হল হ্যালোজেন শ্রেণির অন্তর্গত অধাতু এবং C হল ধাতু।
(iii) A মৌলটি 17 নং শ্রেণির অন্তর্গত হওয়ায় এর যোজ্যতা = 8 - 7 = 1। C মৌলটি 1 নং শ্রেণির অন্তর্গত হওয়ায় এর যোজ্যতা = 1।
Q. A, B ও C-এই তিনটি মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 6, 8 ও 11।
(i) কোনটির তড়িৎ ঋণাত্মকতা সর্বোচ্চ?
(ii) কোনটির আয়োনন বিভব সর্বোচ্চ?
(iii) কোনটির বিজারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ? T
A মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 4,।
B মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 6।
C মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 1।
(i) B মৌলটি A অপেক্ষা আধুনিক দীর্ঘ পর্যায়-সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ে অধিকতর ডানদিকে অবস্থিত। সুতরাং, B মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা সর্বোচ্চ।
(ii) আধুনিক দীর্ঘ পর্যায়-সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ে B মৌলটি A মৌল অপেক্ষা অধিকতর ডানদিকে অবস্থিত হওয়ায় এটির আকার অপেক্ষাকৃত ছোটো। সুতরাং B মৌলটির আয়নন বিভব সর্বোচ্চ।
(iii) C মৌলটি তৃতীয় পর্যায়ে 1নং শ্রেণিতে অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি ধাতু। তাই C-এর বিজারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...

0
Share