ভারতীয় উপমহাদেশের আদিম মানুষ | WBBSE Class 6 History Chapter 2 Question Answer

ভারতীয় উপমহাদেশের আদিম মানুষ | WBBSE Class 6 History Chapter 2 Question Answer

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় 'ভারতীয় উপমহাদেশের আদিম মানুষ' এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অতি সংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত, বর্ণনামূলক ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো।

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান - ১)

১. মানুষের সবচেয়ে পুরোনো জীবাশ্ম কোথায় পাওয়া গেছে?

উত্তর: পূর্ব আফ্রিকা মহাদেশে।

২. লেজবিহীন বড়ো বানরদের কী বলা হতো?

উত্তর: এপ (Ape)।

৩. আদিম মানুষের উদ্ভব আনুমানিক কত বছর আগে হয়েছিল?

উত্তর: প্রায় তিরিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ বছর আগে।

৪. আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার কী ছিল?

উত্তর: ভারী ও এবড়োখেবড়ো পাথর।

৫. আদিম মানুষ কীভাবে আগুন জ্বালাত?

উত্তর: চকমকি জাতীয় পাথরের ঠোকাঠুকিতে বা কাঠে কাঠ ঘষে।

৬. ভারতীয় উপমহাদেশের সবথেকে পুরোনো পাথরের অস্ত্র কোথায় পাওয়া গেছে?

উত্তর: কাশ্মীরের সোয়ান উপত্যকায়।

৭. নর্মদা উপত্যকায় কত বছর আগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে?

উত্তর: এক লক্ষ তিরিশ হাজার বছরের বেশি আগের।

৮. হুন্সগি উপত্যকার কোথায় পুরোনো পাথরের হাতিয়ার পাওয়া গেছে?

উত্তর: কর্ণাটকের ইসামপুর গ্রামে (কাখটা হাল্লা খালের পাশে)।

৯. আলতামিরা গুহা কোথায় অবস্থিত এবং সেখানে কিসের ছবি দেখা যায়?

উত্তর: ইউরোপের স্পেন দেশে অবস্থিত এবং এখানে গুহার ছাদে বিশাল বড়ো একটি ষাঁড়ের ছবি দেখা যায়।

১০. স্পেনের ভাষায় 'ট্যুরো-ট্যুরো' কথার অর্থ কী?

উত্তর: ষাঁড়-ষাঁড়।

১১. শস্যদানা গুঁড়ো করার জাঁতা কোথায় পাওয়া গেছে?

উত্তর: উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে।

১২. নর্মদা উপত্যকার আদমগড়ে কত বছর পুরোনো বন্য পশুর হাড় পাওয়া গেছে?

উত্তর: আট হাজার বছর পুরোনো।

১৩. বাগোর প্রত্নক্ষেত্রটি ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?

উত্তর: রাজস্থানে।

১৪. মানুষ প্রথম কোন যুগে কৃষিকাজ করতে শেখে?

উত্তর: নতুন পাথরের যুগে।

১৫. আদিম মানুষ প্রথম দিকে কী পরিধান করত?

উত্তর: গাছের ছাল ও পশুর চামড়া।

১৬. শিকার ভিত্তিক আদিম সমাজে কীসের অভাব ছিল?

উত্তর: সেই সমাজে কোনো ভেদাভেদ ছিল না (কারণ খাবার সবাই ভাগ করে নিত)।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান - ২)

১. লুসি (Lucy) কী?

উত্তর: লুসি হলো ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়ার হাদার (Hadar) নামক জায়গায় পাওয়া প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগের একটি অস্ট্রালোপিথেকাসের (ছোটো মেয়ের) কঙ্কাল।

২. পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের যাযাবর জীবন কেমন ছিল?

উত্তর: পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষ খাবার জোগাড়ের জন্য নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে দিন কাটাত। পাকাপাকি কোনো বসতি কাশী না থাকায় তারা প্রাকৃতিক গুহায় বা খোলা আকাশের নিচেই দলবেঁধে থাকত এবং শিকার করে ও বনের ফলমূল জোগাড় করে খাবার সংগ্রহ করত।

৩. মাঝের পাথরের যুগে হাতিয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: মাঝের পাথরের যুগে পাথরের হাতিয়ারগুলি আগের থেকে অনেক বেশি ধারালো, হালকা ও ছোটো হয়ে গিয়েছিল। ব্যবহারের সুবিধার জন্য এই ছোটো হাতিয়ারগুলিকে গাছের ডালের সঙ্গে জুড়ে বা গেঁথে নেওয়া হতো।

বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর (মান - ৩)

১. আদিম মানুষের জীবনে আগুনের ব্যবহারের গুরুত্ব বা প্রভাব কী ছিল?

উত্তর: আগুন ব্যবহার করতে শেখার ফলে আদিম মানুষের জীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল ঘটেছিল:
  • আত্মরক্ষা ও শীত নিবারণ: আগুন প্রচণ্ড শীতের হাত থেকে আদিম মানুষকে বাঁচাত এবং বিভিন্ন বন্য জন্তুর আক্রমণ মোকাবিলা করতে সাহায্য করত।
  • খাদ্যাভ্যাসে বদল: আগুন আবিষ্কারের ফলে তারা কাঁচা মাংস খাওয়ার বদলে আগুনে ঝলসানো নরম মাংস খাওয়া শুরু করে।
  • শারীরিক পরিবর্তন: ঝলসানো নরম মাংস খাওয়ার ফলে তাদের চোয়াল ও দাঁতের জোর কম লাগত, ফলে ধীরে ধীরে চোয়াল সরু হয়ে আসে। পাশাপাশি বুদ্ধির বিকাশ হয়।

২. ভীমবেটকা গুহাচিত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে কিছুটা দূরে বিন্ধ্যপর্বতের গা ঘেঁষে নির্জন জঙ্গলে অবস্থিত ভীমবেটকা গুহাগুলির খোঁজ পাওয়া যায় ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে।
  • এই গুহার দেওয়ালগুলিতে মূলত শিকারের দৃশ্য আঁকা রয়েছে, যেখানে মানুষ একা অথবা দলবেঁধে শিকার করছে।
  • গুহাচিত্রে নানারকম বন্য পশুর পাশাপাশি পাখি, মাছ ও কাঠবিড়ালির ছবিও দেখা যায়। অনেক সময় মানুষের সঙ্গে কুকুরকেও দেখা যায়।
  • ছবিগুলিতে সবুজ ও হলুদ রঙের ব্যবহার থাকলেও, মূলত সাদা এবং লাল রঙের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

৩. আদিম মানুষের 'সংস্কৃতি' বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও.

উত্তর: সংস্কৃতি বলতে সাধারণত নাচ-গান, শিল্প-সাহিত্য বোঝানো হলেও, আদিম মানুষের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার লড়াইটাই ছিল তাদের সংস্কৃতি:
  • বেঁচে থাকার পদ্ধতি: খাওয়া, ঘুম ছাড়াও বেঁচে থাকার জন্য বা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আদিম মানুষ যেসব কাজকর্ম করত, সেগুলোর পদ্ধতিই তাদের সংস্কৃতির অংশ।
  • উদাহরণ: নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পাথরের ভোঁতা হাতিয়ার বানানো আদিম মানুষের সংস্কৃতির মধ্যেই পড়ে।
  • পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া: প্রচণ্ড ঠান্ডার হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য গাছের ছাল বা মরা পশুর চামড়া দিয়ে গা ঢাকার যে উপায় আদিম মানুষ বের করেছিল, সেটিই তাদের সংস্কৃতির একটি বড়ো উদাহরণ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান - ৫)

১. আদিম মানুষের বিভিন্ন প্রজাতি বা ভাগগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তর: মস্তিষ্কের আকার ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে আদিম মানুষকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
  • অস্ট্রালোপিথেকাস: এদের 'এপ থেকে মানুষ' বলা যায়। এরা আনুমানিক ৪০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে ছিল। এরা দু-পায়ে ভর দিয়ে কোনোক্রমে দাঁড়াতে পারত এবং শক্ত বাদাম ও শুকনো ফল চিবিয়ে খেত।
  • হোমো হাবিলিস (দক্ষ মানুষ): এরা আনুমানিক ২৬ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ বছর আগে ছিল। এরা দলবদ্ধভাবে থাকত এবং এরাই প্রথম পাথর দিয়ে পাথরকে আঘাত করে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শেখে।
  • হোমো ইরেকটাস (সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ): এরা আনুমানিক ২০ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আগে ছিল। এরা দু-পায়ে ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়াত। এরাই প্রথম শিকার করতে এবং আগুনের ব্যবহার শিখেছিল।
  • হোমো স্যাপিয়েন্স (বুদ্ধিমান মানুষ): এরা আনুমানিক ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিল। এরা দল বেঁধে বড়ো পশু শিকার করত, আগুন ব্যবহার করে মাংস পুড়িয়ে খেত। এরা তীক্ষ্ণ ও ধারালো পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে শিখেছিল।

২. পুরোনো, মাঝের এবং নতুন পাথরের যুগে আদিম মানুষের হাতিয়ার ও জীবনযাপনের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর: পাথরের হাতিয়ার ও জীবনযাপনের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে মানুষের ইতিহাসের পাথরের যুগকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়:
  • পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগের হাতিয়ার ছিল বড়ো, ভারী পাথরের এবং এবড়োখেবড়ো। আদিম মানুষ এই সময় খোলা আকাশের নীচে বা প্রাকৃতিক গুহায় থাকত। তারা খাদ্য উৎপাদন করতে পারত না, কেবল শিকার করে ও বনের ফলমূল জোগাড় করে খেত।
  • মাঝের পাথরের যুগ: এই যুগের হাতিয়ারের পাথর আগের থেকে ছোটো, হালকা ও ধারালো হয়ে ওঠে। আদিম মানুষ গুহা থেকে বেরিয়ে ছোটো ছোটো বসতি বানানো শুরু করে। শিকার ও ফলমূল জোগাড়ের পাশাপাশি তারা পশুপালনও শুরু করেছিল।
  • নতুন পাথরের যুগ: এই যুগে হাতিয়ার অনেক বেশি হালকা ও ধারালো হয়। মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থায়ী বসতি বানায়। কারণ এই যুগে তারা কৃষিকাজ শুরু করেছিল এবং উদ্বৃত্ত খাবার বা জিনিস রাখার জন্য মাটির পাত্র বানানোও শুরু করেছিল।

৩. নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শুরু হওয়ার ফলে আদিম মানুষের সমাজ ও জীবনযাত্রায় কী কী গভীর পরিবর্তন এসেছিল?

উত্তর: নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শেখার ফলে আদিম মানুষের জীবনযাত্রা ও সমাজ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে:
  • খাদ্য উৎপাদক: মানুষ আগে শুধুমাত্র শিকার বা ফলমূল সংগ্রহ করত, কিন্তু কৃষিকাজ শেখার ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন শুরু করে।
  • স্থায়ী বসতি স্থাপন: কৃষিকাজ শুরু হওয়ার পর শিকার বা খাদ্যের খোঁজে তাদের যাযাবর জীবন বা ঘোরাঘুরি বন্ধ হয়ে যায়। চাষের সঙ্গে যুক্ত হয় বাস বা থাকা, ফলে তারা কৃষি অঞ্চলেই পাকাপাকিভাবে স্থায়ী বসতি বানিয়ে থাকতে শুরু করে।
  • পশুপালনে সুবিধা: চাষ করার ফলে প্রচুর খড় ও বিচালি পাওয়া যেত, যা দিয়ে গবাদি পশুর খাবারের সংস্থান হয়। ফলে পশুপালন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে যায়।
  • সমাজ ব্যবস্থার জটিলতা ও পেশা বদল: শিকার ও পশুপালনে খাদ্যের সমান ভাগাভাগি থাকায় কোনো ভেদাভেদ ছিল না। কিন্তু কৃষিতে বাড়তি ফসল ফলানো যেত বলে সবাইকে আর চাষ করতে হতো না। ফলে অনেকেই চাষের যন্ত্রপাতির প্রয়োজনে কারিগর বা অন্যান্য কাজ করতে শুরু করে, যা ক্রমশ একটি জটিল ও উন্নত সমাজ ব্যবস্থার জন্ম দেয়।

Comments

You must be signed in to join the discussion.

Loading comments...

0
Share

Coming Soon!

We are working hard to bring you the best NCERT content. Stay tuned!